‘সপ্তাহে এক দিন পারলে মাছ কিনি, নাইলে ডাইল-ডিম’

প্রথম আলো প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৯:০৭

সকালটা ধীরে ধীরে ফরসা হয়ে উঠছে। হালকা শীত আছে। কুয়াশাও হালকা। কিছু নারী-পুরুষ হাঁটতে বেরিয়েছেন। যাঁর যাঁর মতো এদিক-ওদিক ছুটছেন। শহরের একটি গলিপথ দিয়ে হনহন করে ছুটছিলেন নূর ইসলাম (৫০)। কাঁধে কোদাল, হাতে ঝোলানো টুকরি। টুকরির মধ্যে ভাঁজ করা বাজারের একটি খালি ব্যাগ। গামছা দিয়ে গলা-মাথা প্যাঁচানো।


মৌলভীবাজার শহরের চৌমোহনা চত্বরে সাতসকালে শ্রমিকের হাট বসে। নানা দিকের শ্রমিকেরা এসে ভিড় করেন। নূর ইসলামও কাজের উদ্দেশ্যে সেদিকেই ছুটছেন। দেরি হলে কাজ না-ও পেতে পারেন। এক দিন কাজ না পাওয়ার অর্থ, আরও কিছু দেনা বাড়া।


শহরের আলাউদ্দিন সড়কে গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে নূর ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘কাইল সাড়ে ৬০০ টেকা (টাকা) রুজি করছিলাম। ৫ কেজি চাউল কিনছি, ১ কেজি লবণ কিনছি, আধা কেজি পিঁয়াজ কিনছি, আড়াই শ রসুন কিনছি। মাছ আর আনছি না কাইল। সবকিছু কিনি আর টেকা রইছে (থাকে) না। এক কেজি তরকারি কিনলে ৫০–৬০ টেকা লাগে।’ তিনি বলেন, ‘কাজ সব দিন মিলে না। আইজ খালি হাতে বাইর অইছি। কাজ পাইতাম (পেতে) পারি, না-ও পাইতাম পারি। কিতা করমু (কী করব) আর।’


নূর ইসলামের বয়স ৫০ বছর। এই দীর্ঘ ভ্রমণে কোনো অবসর ছিল না, এখনো নেই। তবে কথা বলার মধ্যে মুখে মৃদু একটা হাসি আছে। এই একটা জায়গায় হয়তো জীবন তাঁকে কাবু করতে পারেনি। সবকিছুকে সহজ করে মানিয়ে নেওয়ার একধরনের সহজাত শক্তি বঞ্চনার মতো জীবনের সঙ্গে মিশে আছে। হয়তো এই শক্তিতেই হাসিমুখে পোড় খাওয়া জীবনের কথাগুলো বলতে পারেন তিনি।


নূর ইসলামের বাড়ি সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে। বাড়িতে এখনো বাপ-দাদার ভিটা আছে। কিন্তু শেষ কবে বাড়িতে গেছেন, সেটা আর মনে করতে পারেন না। সেই ছোটবেলা বাবার হাত ধরে মৌলভীবাজার এসেছিলেন। দেখতে দেখতে ৩৫-৪০ বছর কেটে গেছে। এখনো এখানেই থিতু হয়ে আছেন। বাবা ট্রাক-শ্রমিকের কাজ করতেন। তিনিও বড় হয়ে বাবার পথেই হেঁটেছেন। অন্য কোনো পথ, অন্য কিছু করার কথা মাথায় আসেনি। তবে ১০-১২ বছর ধরে আর ট্রাকে কাজ করেন না। টুকরি-কোদাল নিয়ে প্রতি সকালে বাসা থেকে বের হন। এটিই এখন তাঁর জীবিকার পথ।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন
ট্রেন্ডিং

সংবাদ সূত্র

News

The Largest News Aggregator
in Bengali Language

Email: [email protected]

Follow us