ছবি সংগৃহীত

তেতাল্লিশ বছরের না বলা কথা!

মুক্তিযুদ্ধের সময় নিতান্তই শিশু ছিলাম, ছয়-সাত বছরের বালিকা, প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে বাবা-মায়ের সাথে পথে-প্রান্তরে, মাঠে-ঘাটে দৌড়েছি, কখনওবা গ্রামে থেকেছি, আবার পালিয়েছি, শেষ পর্যন্ত খালি পা, ছেঁড়া জামা গায়ে কলকাতা পৌঁছেছি, আত্মীয়বাড়ী থেকেছি, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাবা-মায়ের হাত ধরে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে এসেছি। মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা একেকজনের কাছে একেকরকম হওয়াই স্বাভাবিক।

Rita Roy Mithu
লেখক
প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০১৪, ০৬:০৭ আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০১৮, ০৯:০০
প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০১৪, ০৬:০৭ আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০১৮, ০৯:০০


ছবি সংগৃহীত
মুক্তিযুদ্ধের সময় নিতান্তই শিশু ছিলাম, ছয়-সাত বছরের বালিকা, প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে বাবা-মায়ের সাথে পথে-প্রান্তরে, মাঠে-ঘাটে দৌড়েছি। কখনওবা গ্রামে থেকেছি, আবার পালিয়েছি। শেষ পর্যন্ত খালি পা, ছেঁড়া জামা গায়ে কলকাতা পৌঁছেছি, আত্মীয়বাড়ী থেকেছি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাবা-মায়ের হাত ধরে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে এসেছি। মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা একেকজনের কাছে একেকরকম হওয়াই স্বাভাবিক। আমার বয়সী বালিকার কাছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি মানেই মাঝরাত, ভোর রাত, ভর দুপুরে বাবামায়ের সাথে দৌড়ে পালানোর উত্তেজনা। উচ্ছ্বাস, কৌতুহল, এবং যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলার শিশুতোষ আনন্দ। পক্ষান্তরে বাবামায়ের কাছে মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা মানেই রাজনৈতিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, অবিশ্বাস, মৃত্যুভয়, উৎকন্ঠা, নিরাপত্তাহীনতা, পরনির্ভরতার সংকোচ, অনিশ্চয়তার গ্লানি। ছোট ছিলাম বিধায় মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক দিক বেশী কিছু বুঝতামনা, বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন, বরেণ্য রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, লেখক, কবি, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, চলচিত্র নির্মাতাদের কাছ থেকে শুনে শুনে যতটুকু শিখেছি, সেটুকু সম্বল করেই এতকাল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলে গেছি। অতি সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নতুন বই লিখেছেন মুক্তিযুদ্ধচলাকালীন বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদের জ্যেষ্ঠ কন্যা শারমিন আহমেদ। বইয়ের নাম- “তাজউদ্দিন আহমেদ—নেতা ও পিতা”। শারমিন আহমেদ ত্রিশ বছরের উপর ধরে আমেরিকা প্রবাসী, মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনিও ছোট ছিলেন, মাত্র ১১ বছর বয়স। তবুও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই ‘তাজউদ্দিন আহমেদ– নেতা ও পিতা’ লিখে ফেলেছেন! চারদিন পূর্বে বইয়ের মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে বেশ জাঁকজমকের সাথে। বইটির প্রকাশনা উৎসবে উপস্থিত ছিলেন ডঃ কামাল হোসেন, ব্যারিষ্টার আমীরুল ইসলাম চৌধুরী, ডঃ আনিসুজ্জামানসহ আরও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সংবাদটি ছবি, ভিডিও ক্লিপসহ বেশ বড় অবয়বে অনলাইন মিডিয়ায় এসেছে। সংবাদের হেডলাইনে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু এবং তাজউদ্দিন আহমেদের অনেক না বলা কথা নিয়ে রচিত গ্রন্থ ‘তাজউদ্দিন আহমেদ—নেতা ও পিতা’। অনলাইন মিডিয়াতে বইটি নিয়ে খুব হৈচৈ হচ্ছে। বলা হচ্ছে, বইখানিতে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ এবং তাজউদ্দিন আহমেদ সম্পর্কে অনেক ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির পাঁয়তারা তো স্বাধীনতার পর থেকেই চলছে। বাংলাদেশের মানুষ এগুলো দেখে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। কিছুদিন আগে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক জিয়া বঙ্গবন্ধুকে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী বলতে দ্বিধাবোধ করেনি, তার পিতা মরহুম রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বলতেও দ্বিধাবোধ করেনি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তারেক জিয়ার এইসমস্ত বক্তব্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও সাধারণ জনগণ পাত্তা দেয়নি। ‘তাজউদ্দিন আহমেদ—নেতা ও পিতা’ বইটি সম্পর্কেও কারো তেমন একটা মাথাব্যথা হতোনা যদি না বইটির লেখিকা শহীদ তাজউদ্দিনের কন্যা শারমিন আহমেদ হতেন। তাজউদ্দিন আহমেদ সাহেবের ছেলে মেয়ে বলতে এক কথায় বুঝি সিমিন হোসেন রিমি এবং সোহেল তাজকে। শারমিন আহমেদ নামে যে উনাদের আরেকটি মেয়ে আছে, এ কথাই কজন মনে রাখে। এইজন্যই বইটির প্রচারে শারমিন আহমেদকে অনলাইন মিডিয়ায় হাইলাইট করার চেষ্টা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দিনের না বলা কথা শিরোণামে, বই থেকে সংগৃহীত কিছু কিছু অংশ, এবং শারমিন আহমেদের ১৮ মিনিটের বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ অনলাইন মিডিয়ায় এসেছে যেখানে শারমিন আহমেদ বলতে চেয়েছেন বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা ঠিক, তবে তাজউদ্দিন সাহেব তো কম নন, বঙ্গবন্ধুকে বঙ্গবন্ধু হতে কে সহায়তা করেছে, কিন্তু বাংলাদেশে তাজউদ্দিন আহমেদের কোন মূল্যায়ন নেই। অথচ একজন তাজউদ্দিন বিনে একজন বঙ্গবন্ধু হওয়া যেতোনা। শারমিন আহমেদ জন্মগ্রহম করেন ১৯৬০ সালে, মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর। বইয়ের যে অংশগুলো মিডিয়ায় এসেছে সেগুলো সমন্ধে যে কোন সচেতন পাঠকের মনে তথ্যের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন জাগবে। সেদিনের ১১ বছরের বালিকা স্বাধীনতার তেতাল্লিশ বছর পর তার মুজিব কাকু এবং আব্বুর না বলা কথা নিয়ে লিখেছেন বলে দাবী করেছেন, স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর, না-বলা কথাগুলোর সত্যাসত্য সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে পারতেন স্বয়ং বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দিন আহমে্‌দ, জোহরা তাজউদ্দিন কিন্তু তাঁদের কেউ আজ বেঁচে নেই। শারমিন আহমেদ নতুন কি তথ্য জানাতে চেয়েছেন? তিনি কি জানেননা যে বাংলাদেশে অবস্থানরত তাঁরই ছোট বোন, সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমির তত্বাবধানে ‘শহীদ তাজউদ্দিনের ডায়েরী’ নামে স্বয়ং তাজউদ্দিনের লেখা থেকেই তাজউদ্দিনের জীবনের বলা না বলা কথাগুলো নিয়মিতভাবে পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে? ‘তাজউদ্দিন আহমেদ—নেতা ও পিতা’ বইয়ের বিভিন্ন অংশে তিনি বেশ কিছু সাক্ষ্যহীন না-বলা তথ্য দিয়েছেন যা নিয়ে বিতর্ক হবেই এবং বিতর্ক হচ্ছে। শারমিন আহমেদ তার বইয়ে যেভাবে ২৫শে মার্চ রাত্রির বর্ণনা দিয়েছেন, সে রাতে ৩২ নাম্বার বাড়ী থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা দেয়া না দেয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেছেন, বঙ্গবন্ধু এবং তার পিতার কথোপকথন, তর্ক-বিতর্কের বর্ণনা দিয়েছেন, এমনকি পাকিস্তানী বাহিনীর কাছে বঙ্গবন্ধু স্বেচ্ছাবন্দী হতে যাওয়ার আগে বেগম মুজিবের স্যুটকেস গোছা��ো, মুজিব কাকুর পায়জামায় ফিতে পরানো পর্যন্ত যত খুঁটিনাটি বর্ণনা করেছেন, যে কোন পাঠকের ধারণা হবে, হয় লেখিকা সেখানে উপস্থিত ছিলেন, নয়তো তাজউদ্দিন আহমেদ নিজেই ১১ বছর বয়সী কন্যার কাছে সবকিছুর বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন। কিন্তু এখানেই প্রশ্ন জাগে, দেশের ক্রান্তিলগ্নে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে দুই নেতার মধ্যে যে কথোপকথন, বাকবিতন্ডা, মন কষাকষি হয়েছে, অতি গোপনীয় এই তথ্যগুলো তাজউদ্দিন আহমদ নিশ্চয়ই নিজের মধ্যেই রেখেছেন, ১১ বছর বয়সী কন্যার কাছে পুংখানুপুংখ বর্ণনা করেননি, তাহলে শারমিন আহমেদ এই সকল তথ্য কোথা থেকে পেলো! ২৫শে মার্চের রাতে ১১ বছর বয়সী বালিকাকে সাথে নিয়ে পিতা তাজউদ্দিনের ৩২ নাম্বারে যাওয়ার কথা নয়, অথবা গেলেও বঙ্গবন্ধুর সাথে মুক্তিযুদ্ধ শুরু করা না করার মত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় কন্যাকে পাশে রাখার কথা নয়, অথবা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে পুত্র-কন্যার উপস্থিতিতে স্ত্রী জোহরা তাজউদ্দিনের সাথেও আলোচনা করার কথা নয়। তাহলে কোথা থেকে এইসব তথ্য আবিষ্কৃত হলো? এদিকে বইটির এক স্থানে শারমিন লিখেছেন যে তাকে তার মা দুদিন আগেই তাঁতীবাজার খালার বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। তাহলে শারমিন ৩২ নাম্বারে অবস্থানরত তার পিতা আর মুজিব কাকুর কথোকথন সম্পর্কে জানলো কখন? তার মায়ের কাছ থেকে? বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগ, তাজউদ্দিনের আওয়ামীলীগের জন্য নিবেদিতপ্রাণ নেত্রী জোহরা তাজউদ্দিনের পক্ষে কি আদৌ সম্ভব ছিল কিশোরী কন্যার কাছে এইসকল গোপন রাজনৈতিক তথ্য নিয়ে আলোচনা করা? শারমিন আহমেদ লিখেছেন, “পাকিস্তানী সেনাবাহিনী যে কোনো মুহূর্তে আওয়ামীলীগের নেতা, কর্মী ও বাঙালী জনগণের ওপর হামলা চালাতে পারে----তখন সামনে খোলা থাকবে একটাই পথ—স্বাধীনতার পথ। আব্বুকে আম্মা প্রশ্ন করেছিলেন যে মুজিব ইয়াহিয়া বৈঠক যদি ব্যর্থ হয় তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা কি হবে? আব্বু উত্তর দিয়েছিলেন ‘আমরা আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাব তারপর স্বাধীনতা ঘোষণা করে দেব। পূর্ব পরিকল্পনানুযায়ী ২৫ মার্চের ভয়াল কালো রাতে আব্বু গেলেন মুজিব কাকুকে নিতে। মুজিব কাকু আব্বুর সঙ্গে আন্ডারগ্রাউন্ডে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করবেন, সে ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী পুরানো ঢাকায় একটি বাসাও ঠিক করা হয়েছিল। বড় কোনো সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আব্বুর উপদেশ গ্রহণে মুজিব কাকু কখনও দ্বিধা করেননি। অথচ শেষ মুহূর্তে মুজিব কাকু আব্বুকে বললেন, বাড়ি গিয়ে নাকে তেল দিইয়ে ঘুমিয়ে থাকো, পরশুদিন হরতাল ডেকেছি। মুজিব কাকুর এই উক্তিতে আব্বু বিস্ময় ও বেদনায় বিমূঢ় হয়ে পড়েন। এদিকে বেগম মুজিব মুজিব কাকুর জন্য স্যুটকেস গোছাতে শুরু করেন, পায়জামায় ফিতা ভরে দেন, মুজিব কাকু পাকিস্তানী সেনাদের কাছে স্বেচ্ছাবন্দী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন দেখেও আব্বু হাল না ছেড়ে প্রায় এক ঘন্টা বিভিন্ন ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে মুজিব কাকুকে বুঝাতে থাকেন, অতীতেও আত্মগোপনে থেকে অনেকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিল। কিন্তু মুজিব কাকু নিজ সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। আব্বু বললেন, পাকিস্তান বাহিনীর লক্ষ্য হলো পূর্ব-বাংলাকে নেতৃত্বশূন্য করে দেওয়া, এ অবস্থায় মুজিব কাকু ধরা দেওয়া আত্মহত্যার শামিল। আব্বু বলেন, “ মুজিব ভাই, বাঙ্গালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা আপনি---“ কাকু বললেন,” তোমরা যা করবার কর, আমি কোথাও যাবনা”। আব্বু জানতে চেয়েছেন, আপনার অবর্তমানে দ্বিতীয় নেতা কে হবে, দলকে জানানো হয়নি। দ্বিতীয় নেতৃত্ব ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়া হবে”। আব্বুর সেদিনের এই উক্তিটি ছিল এক নির্মন সত্য ভবিষ্যদ্বাণী। আব্বু সেদিন স্বাধীনতার ঘোষণা লিখে এনেছিলেন, টেপ রেকর্ডার এনেছিলেন। কাকু টেপে বিবৃতি দিতে এবং ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর প্রদানে অস্বীকৃতি জানান। কাকু বলেন, ‘এটা আমার বিরুদ্ধে দলিল হয়ে থাকবে, এরজন্য পাকিস্তানীরা আমাকে দেশদ্রোহের বিচার করবে।‘ আব্বুর লেখা ঐ স্বাধীনতা ঘোষণাই প্রায় হুবহু কপি পরদিন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রচারিত হয়। আব্বুর আস্থাভাজন কোন ছাত্র স্বউদ্যোগে বা আব্বুর নির্দেশে বহির্বিশ্বে প্রচার করে”। এটি ছিল শারমিন আহমেদের দেয়া তথ্যসমূহের মূল বিষয় যেখানে বলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের দিক নির্দেশনা দেননি, উনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি এমনকি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরও করেননি, বরং অমন অসহ্য মুহূর্তে তাজউদ্দিন আহমেদকে বলেছেন নাকে তেল দিয়ে ঘুমাতে। এগুলোই ‘না-বলা’ কথা। অথচ স্বাধীনতার ঘোষণা এবং বঙ্গবন্ধু গ্রেফতারের ঘটনা সম্পর্কে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, তথ্যকেন্দ্র, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থাবলী ঘেঁটে জানা যায় অন্যরকম তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শী হাজী মোরশেদের জবানীতে ২৫শে মার্চ বঙ্গবন্ধু যেভাবে গ্রেফতার হলেন- আনোয়ার কবির ২৬/০৩/২০১৪. 'ধানমন্ডির ৩২ নং বাড়িতে ঢুকে দেখি খালি, কোথাও কেউ নেই। ঢুকে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বেডরুমের দরজায় দেখা। আমার দিকে তাকিয়ে মুজিব ভাই বললেন—''আমরা স্বাধীন হয়ে গেলাম। They are coming to arrest me. I have decided to stay.'' আমাকে বললেন, তুই চলে যা। আমি বঙ্গবন্ধুর কথায় না গিয়ে থেকে যাই। তিনি তখন মৃত্যুর মুখোমুখি। বেডরুমে আমি আর মুজিব ভাই। একের পর এক ফোন আসছে। আমি ফোন ধরছি। মিসেস সিরাজুল হক, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ (আমাকে তিনি হাজী ভাই বলে ডাকেন)সহ অনেকেই ফোন করছেন। প্রত্যেকেই বলছেন, মুজিব ভাইকে পালাতে বলেন। অনেকে জানতে চান আমরা কী করব। রাতে অনেকের সাথে ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলামও এসেছিলেন। সর্বশেষ এসেছিলেন তৈয়বুর রহমান (ছাত্রলীগ নেতা, পরবর্তীকালে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরিচালক হয়েছিলেন)। তিনি বঙ্গবন্ধুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ''মুজিব ভাই পালান, ওরা আপনাকে মেরে ফেলবে।'' বঙ্গবন্ধু ইংরেজিতে বললেন, If they do not get me they will massacre all my people and destroy the city. তৈয়বুর রহমান চোখ মুছতে মুছতে চলে গেলেন। ক্ষণে ক্ষণে ফোন আসছিলো। রাত ১২টার পরে একটি ফোন আসলো, বলল—'আমি বলদা গার্ডেন থেকে বলছি। ম্যাসেজ ট্রান্সমিটেড করা হয়ে গেছে। এখন আমরা কী করবো।' বঙ্গবন্ধুকে জানালে বললেন, 'মেশিনটি ভেঙ্গে ফেলে পালিয়ে যেতে বলো।' রাত ১.১৫ মি.-এর সময় সবকিছু আলোকিত হয়ে গেল। পরে বুঝলাম এটি ট্রেসার বুলেটের আলো। তখন আমার কানে ফোন। মুজিব ভাই নিচে নেমে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, কোন দিক থেকে গুলি আসছে? আমি উত্তর দিক দেখিয়ে দিলাম। কানে টেলিফোন থাকাবস্থায় হঠাত্ আওয়াজ হলো—হ্যান্ডস আপ, তারপরে আওয়াজ হলো—মাত মারো। আমার মাথায় এক আঘাতে আমি জ্ঞান হারালাম। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকারের মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন (তিনি তখন বঙ্গবন্ধুর পাশের বাড়িতে থাকতেন)-এর থেকে শুনেছি, আমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাকিস্তান আর্মির গাড়িতে তোলার সময় মুজিব ভাই চিত্কার করে বলেছিলেন, How dare you hit him, I want him alive. এখানে কোথাও বঙ্গবন্ধুর সাথে তাজউদ্দিন আহমেদের তর্কাতর্কি, তাজউদ্দিন আহমেদকে বঙ্গবন্ধুর নাকে তেল দিইয়ে ঘুমাতে যাওয়ার উল্লেখ করা হয়নি, অথচ শারমিন আহমেদের ভাষ্যানুযায়ী এহেন কথোপকথন চলাকালীন সময়ে মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা ঘোষণার ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুকে নির্বিকারই মনে হয়েছে। আরেকটি তথ্যঃ দৈনিক জনকন্ঠ ১৬ই ডিসেম্বার ১৯৯৩। ৯৭১ সালের ২৫শে দিবাগত রাতে বঙ্গবন্ধু যেভাবে গ্রেফতারের পূর্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন এবং স্বাধীনতার ঘোষণার কিছু পরেই তাঁকে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চালু হয়ে যায়। তাঁকে গ্রেফতারে দায়িত্ব দেয়া হয় কিছু পাকি সেনা কর্মকর্তাকে। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের অভিযানটির নাম দেয়া হয় ‘বেলালের ছোকরা’। ‘বেলালের ছোকরা’ অর্থাৎ মেজর বেলাল ও তার কমান্ডো গ্রুপের নাম। তারাই ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ি থেকে ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করার দায়িত্বে ছিল। সে দায়িত্ব পালনকালে মেজর বেলালের নির্দেশে পাকিস্তানী কমান্ডোরা বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করার সময় তাঁকে পিঠে ও ঘাড়ে রাইফেলের বাট দিয়ে প্রচন্ড শক্তিতে আঘাত করেছিল। বঙ্গবন্ধু ব্যাথ্যায় চিৎকার করে তাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “আমার সঙ্গে তোমরা দুর্ব্যবহার করছো কেন?” তবু তারা তাঁকে ছাড়েনি, অমানুষিক নির্যাতন করতে করতে ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ি থেকে তাঁকে বের করে নিয়ে যায়। ২৬শে মার্চের ১ম প্রহরে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের ঐতিহাসিক প্রমান মিলে জেনারেল টিক্কা খানের একটি সাক্ষাৎকার থেকে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন সাংবাদিক মুসা সাদিক যিনি ৭১’এর রনাঙ্গনের একজন সাহসী সাংবাদিক ছিলেন। ১৯৮৮সালে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সার্ক সম্মেলন উদ্বোধন করেন বেনজির ভূট্টো। সে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাঞ্জাবের গভর্নর জেনারেল টিক্কা খান। সাংবাদিক মুসা সাদিক ও ‘আইন-আদালত’ খ্যাত এড, রেজাউর রহমান টিক্কা খানের গভর্নর হাউজে একটি সাক্ষাতকার নেন। তার সামান্য একটি অংশ — মু.সাদিকঃ –স্যার, শেখ মুজিবুর রহমানকে কেন ২৬শে মার্চ ধানমন্ডীর বাড়ী থেকে গ্রেফতার করেছিলেন? জেনারেল টিক্কা খানঃ আমার কো-অর্ডিনেশন অফিসার একটি থ্রি ব্যান্ড রেডিও এনে বললো স্যার শুনুন, শেখ সাহেবকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে শুনলাম, কারন শেখ সাহেবের কণ্ঠস্বর আমি ভাল করেই চিনতাম। যে ঘোষণা তখন দেশদ্রোহিতার শামিল ছিল। সে ক্ষেত্রে শেখ সাহেবকে গ্রেফতার করা ছাড়া আমার কোন বিকল্প ছিল না। মু.সাদেকঃ স্যার, যদি তাজউদ্দিন সাহেবের সাথে শেখ মুজিব ভারতে চলে যেতেন, সেক্ষেত্রে আপনারা কি করতেন? জেনারেল টিক্কা খানঃ আমি ভাল করেই জানতাম শেখ মুজিবের মতো নেতা তার নিজের লোকদের ছেড়ে যাবেন না কোথাও। আমি শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করার জন্য ঢাকার সমস্ত জায়গায় প্রতিটি বাড়ি-ঘরে, এমন কি প্রতিটি কোণায় কোণায় তল্লাশি চালাতাম। তাজউদ্দিনের মতো অন্য কোন নেতাদের আমার গ্রেফতারের ইচ্ছা ছিল না। এজন্য তারা সহজেই ঢাকার বাইরে চলে যেতে পেরেছিল। এখানেও কোথাও বঙ্গবন্ধ এবং তাজউদ্দিন আহমেদের কথোপকথনের কথা উল্লেখ করা হয়নি। শারমিন আহমেদ ভিডিও সাক্ষাৎকারে বেশ আবেগাপ্লুত হয়ে বলেছেন, বইটি লেখা শুরু করেন ২০০৬ সালের জানুয়ারী মাসে, বইটি লেখার ব্যাপারে প্রচন্ড উৎসাহ পেয়েছেন তার মা বেগম জোহরা তাজউদ্দিনের কাছ থেকে। মৃত্যুশয্যায় থেকে বেগম তাজউদ্দিন নাকি মেয়েকে তাড়া দিতেন, জানতে চাইতেন কবে শেষ হবে এই বই, তার মা যে কথা বলতে পারেননি, সেই না বলা কথাগুলোই মায়ের উত্তরসূরী হিসেবে ছেলেমেয়েরা বলতে যাচ্ছে, মা খুব খুশী ছিলেন। আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে, তাজউদ্দিন আহমেদের না বলা কথাগুলো জোহরা তাজউদ্দিন নিজে তো জানতেন, সবকিছু জেনেও তিনি কি করে এই পরিবারের অপর দুই সদস্য সোহেল তাজ, সিমিন হোসেন রিমিকে না জানিয়ে আমেরিকা প্রবাসী শারমিনকেই শুধু জানালেন? অথবা এমন কি হতে পারে যে সোহেল তাজ, রিমি সব জেনেও সরাসরি আওয়ামী রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন, কীভাবে তা সম্ভব? শারমিন আহমেদ বলেছেন, উনি ত্রিশ বছর ধরে আমেরিকায় আছেন, বাংলাদেশের রাজনীতির সাথে জড়িত নন, শুধু সত্যি ইতিহাসটুকু বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে মেলে ধরতে চেয়েছেন। উনি আমেরিকান মিউজিয়ামের উদাহরণ টেনেছেন, যে মিউজিয়ামে ইতিহাসের মহানায়কদের যাঁর যাঁর প্রাপ্য সম্মান দেয়া হয়েছে, উনি বাংলাদেশের প্রতিটি কাগুজে টাকায় বঙ্গবন্ধুর মুখের ছবির সমালোচনা করতে গিয়ে বলেছেন, আমেরিকান ডলারে এমন পারিবারিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হয়না, আমেরিকান ডলারে আমেরিকান কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একেক নোটে একেকজনের ছবি ছাপা হয়। উনি বক্তব্যের ছত্রে ছত্রে আক্ষেপ করেছেন, মুজিবনগর দিবস পালিত হয়, সেখানে বঙ্গবন্ধুর কথা বলা হয় অথচ মুজিবনগর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যাঁর নেতৃত্ব এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়, সেই তাজউদ্দিন আহমেদের নাম উচ্চারিত হয়না। শুধু কন্যা হিসেবে নয়, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবেই এই অনিয়মগুলো উত্থাপন করা যায়, কিন্তু এগুলো নিশ্চয়ই তাজউদ্দিন আহমেদের না-বলা কথার মধ্যে পড়েনা। স্বাধীনতার ১০০ বছর পেরিয়ে গিয়েও অনেক অজানা তথ্য বেরিয়ে আসে, কিন্তু এই উছিলায় প্রতিষ্ঠিত সত্যকেও যদি প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়, তখন সত্যি-মিথ্যে যাচাই করা তো পাঠকের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। শারমিন আহমেদ আরও লিখেছেন, “ইসলাম ধর্মের কলংক, গণহত্যাকারী, বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী, নারী ধর্ষণকারী, মানবতা বিরোধী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ঘাতক দালালরা যারা সেদিন ১৯৭৩ সালের সাধারণ ক্ষমার ফলে মুক্তিলাভ করেছিল তারা নির্দোষিতার মুখোশ পরে মিশে গিয়েছিল সাধারণ মানুষের ভিড়ে।----ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় তৎকালীন মুজিব সরকারের ব্যররথতা আর দুর্নীতির কারণে দেশী ও বিদেশী শত্রুদের হাত ক্রমশঃ শক্তিশালীও হয়ে উঠে। এই অভিযোগ বিএনপি থেকে হরহামেশা করা হয়, সেদিন তারেক জিয়া বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মরহুম জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বলেছেন, তারা এই ধরণের কথা প্রতিদিন বলে থাকেন, আমরা বিশ্বাস করি কিনা সেটি নিয়ে ভাবেননা। কিন্তু শহীদ তাজউদ্দিন আহমদের মেয়ে যদি বলেন, বঙ্গবন্ধু সকলকেই সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন, তখন হোঁচট খেতেই হয়, আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় শিশু ছিলাম, যারা বড় হয়ে পুরনো কাগজপত্র ঘেঁটে খুঁজে পেয়েছি ১৯৭৩ সালের ১লা ডিসেম্বারের দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতা, যেখানে বড় বড় হেডলাইনে লেখা আছে, সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা (সরকার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করিয়াছেন, এই ঘোষণা অনুযায়ী যে সকল ব্যক্তি ধর্ষণ, খুন, অগ্নিসংযোগ অথবা পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞের দায়ে অভিযুক্ত অথবা দন্ডপ্রাপ্ত তাহারা ছাড়া বাংলাদেশ দালাল আইন (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল)বলে অভিযুক্ত অথবা সাজাপ্রাপ্ত সকলকে অনতিবিলম্বে মুক্তিদান করা হলো। তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ কামাল হোসেনের ভাষ্য থেকে যেখানে তিনি বলেছেন, “পাকিস্তানি ১৯৫ যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা প্রদর্শন সম্পর্কে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতায় স্বাক্ষরকালীন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন বলেছেন, "যেহেতু পাকিস্তান নিজদেশে তাদের যুদ্ধাপরাধীধের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সে কারণেই বাংলাদেশ তাদের বিচার না করে ছেড়ে দিয়েছে উপমহাদেশে শান্তি ও সমঝোতার বাতাবরণ সৃষ্টির জন্য।" সেসময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চাপেই বালাদেশ সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। আর এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানী যুদ্ধবন্দীরা পাকিস্তানে ফেরত যায়।“ উপরিউক্ত তথ্যগুলোর সাথে শহীদ তাজউদ্দিনের কন্যা শারমিন আহমেদের দেয় তথ্য তুলনা করে আমরা বিভ্রান্ত হই, কোনটা সঠিক? স্বাধীনতার ১০০ বছর পেরিয়ে গিয়েও অনেক অজানা তথ্য বেরিয়ে আসে, কিন্তু এই উছিলায় প্রতিষ্ঠিত সত্যকেও যদি প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়, তখন সত্যি-মিথ্যে যাচাই করা তো পাঠকের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। তাজউদ্দিন আহমেদ, জোহরা তাজউদ্দিন বেঁচে নেই! বই প্রকাশনা উৎসবে ডঃ কামাল হোসেন, ডঃ আনিসুজ্জামান, ব্যারিষ্টার আমীরুল ইসলাম উপস্থিত থেকে বইটির গুরুত্ব, বইটির তথ্যের সত্যতা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছেন নিঃসন্দেহে। অথচ বঙ্গবন্ধুর সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা সংক্রান্ত তথ্যের সাথে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সেদিনের বই প্রকাশনা উৎসবের অন্যতম অতিথি ডঃ কামাল হোসেনের দেয়া তথ্যে মিলে না। ২৫শে মার্চের কালো রাতে ৩২ নাম্বার বাড়ীর যে বর্ণনা শারমিন দিয়েছেন, তার সাথে অন্য উইটনেসদের বর্ণনা হুবহু মিলেনা, সকলের বর্ণনাতেই ৩২ নাম্বারের বাড়ীতে কামাল হোসেন, ব্যারিষ্টার আমীরের কথা আছে, অমিল থেকে যায় শুধুমাত্র তাজউদ্দিন আহমেদ সম্পর্কে শারমিনের বর্ণনায়। এটাই বোধ হয় না-বলা কথার সারকথা। স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কে যে তথ্য স্বয়ং তাজউদ্দিন আহমেদও বলেননি, ডায়েরীতেও লিখেননি, ডঃ কামাল হোসেন, ব্যারিষ্টার আমীর শারমিন আহমেদের বই প্রকাশনা উৎসবে উপস্থিত থেকে‘তাজউদ্দিন আহমেদ—নেতা ও পিতা’ বইয়ের কতিপয় মিথ্যে তথ্যগুলোকে সত্যায়িত করে গেলেন। এভাবেই একজনের না-বলা কথা জানতে গিয়ে আরও নতুন নতুন কথা না-বলা হয়ে থাকছে, আজকের না-বলা কথাগুলো জানতে হলে পরবর্তী তেতাল্লিশ বছর অপেক্ষা করতে হবে। তখনতো আমরা থাকবোনা, না-বলা কথার সপক্ষে কে দেবে সাক্ষ্য?

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...