লক্ষ্মীপুরে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কিত বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা

মানবজমিন প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ও রামগঞ্জ উপজেলার ২০টি ইউনিয়নে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। তাদের অভিযোগ আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তার সমর্থকদের গুলি করে হত্যাসহ নানা হুমকি-ধমকিতে আতঙ্কিত প্রার্থী ও ভোটাররা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বলেছেন, বিজয়ী হলে এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত থাকবে। একই অভিযোগ করেছেন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা। লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী নাজমুল করিম রাজু অভিযোগ করে বলেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী নাসির উদ্দিন লিটন, গোলাম মোস্তফা এবং তাদের সমর্থকরা প্রকাশ্যে আমাকে ও পরিবারের সবাইকে গুলি করে হত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। এছাড়া ভোটের আগে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এতে করে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কিত। পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। গত বুধবার রাতে নিজ নির্বাচনী কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন কাউন্সিলর প্রার্থী নাজমুল করিম রাজু। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অপর দুই কাউন্সিলর প্রার্থী নাসির উদ্দিন লিটন ও গোলাম মোস্তফা বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে প্রতিপক্ষ কাউন্সিলর প্রার্থী এ ধরনের কথা বলছেন। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ ভালো রয়েছে। এদিকে, রামগঞ্জ উপজেলার লামচর ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী মাহেনারা পারভীন ও তার সমর্থকদের হুমকি-ধমকির ভয়ে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ফয়েজ উল্যাহ জিসান পাটওয়ারী ও তার লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার হুমকির অভিযোগ করেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ফয়েজ উল্যাহ জিসান পাটওয়ারী। বুধবার রাতে নিজ দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি। তবে নৌকার প্রার্থী মাহেনারা পারভীন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এলাকায় ভাড়া করা সন্ত্রাসী এনে ত্রাস সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন। একই অভিযোগ করেছেন চণ্ডিপুর ইউপির আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, শামছুল ইসলাম সুমন, রায়পুরে দক্ষিণ চরবংশীর আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুর রশিদ মোল্লা, বামনী ইউপির মঞ্জুরুল কবির ও কেরোয়ার মো. ইউনুছসহ ১৭টি ইউপির স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।অপরদিকে, রায়পুর উপজেলায় উত্তর চরবংশীতে আবুল হোসেন, রায়পুর ইউনিয়নে সফিউল আজম চৌধুরী সুমন ও চর মোহনাতে সফিকুর রহমান পাঠান বিনা প্রতিদ্বিন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান এবং দুই উপজেলায় সংরক্ষিত মহিলা ও পুরুষ পদে ১৬ জন সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এছাড়া ১৭ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ৭৮ জন, সংরক্ষিত মহিলা ও পুরুষ সদস্য পদে ৯শ’ ৮৫ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় করছেন। এছাড়া লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ৪ জন মেয়র ও একশ’ সংরক্ষিত মহিলা ও পুরুষ কাউন্সিলর মাঠে রয়েছেন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নাজিম উদ্দিন জানান, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের টহল অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। পুলিশ সুপার ড. এএইচএম কামরুজ্জামান বলেন, রায়পুর ও রামগঞ্জ উপজেলার ২০টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৮শে নভেম্বর। সে অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ জানান, ইতিমধ্যে আচরণবিধি না মানায় বেশ কয়েকজনকে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণে জিরো টলারেন্সে প্রশাসন। যদি কোনো কেন্দ্রে সমস্যা হয়,তাহলে ভোট বন্ধ করে দেয়া হবে। এসব বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন
এই সম্পর্কিত

শোক সংবাদ

৭ ঘণ্টা, ১২ মিনিট আগে

Democratic progress continues: Obaidul

৭ ঘণ্টা, ৩৬ মিনিট আগে

Ex-mayor Hanif’s death anniv today

৮ ঘণ্টা, ৩ মিনিট আগে

Verdict in Abrar killing case today

৮ ঘণ্টা, ৯ মিনিট আগে