শূন্য থেকে নতুন শুরুর প্রত্যয়

মানবজমিন প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০

সাগরিকা স্টেডিয়ামে দূর থেকে শোনা যায় বঙ্গোপসাগরের গর্জন। একটা সময় ছিল এই মাঠে খেলা হলে সেই গর্জনের সঙ্গে যোগ হতো টাইগার ক্রিকেটের ভক্তকুলের কণ্ঠ ছেঁড়া চিৎকার। কিন্তু ধীরে ধীরে তাদের ব্যর্থতায় বদলাতে শুরু করেছে দিন। এমনিতে টেস্ট ক্রিকেটে এদেশের দর্শক কম এবার তার সংখ্যা যে আরও কমে তলানিতে তা অনুমান করা যাচ্ছে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচের আগেই। এই ম্যাচের টিকিট নিয়ে নেই কোনো হাহাকার। এমএআজিজ স্টেডিয়ামের টিকিট কাউন্টারে নেই কোনো ভিড়। শুধু কি তাই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের গেটের সামনে প্রতিবারের মতো রাতে দর্শকদের টিকিটের জন্য ভিড় এমনকি উঁকিঝুঁকিও নেই। এক কথায় নিরুত্তাপ এক পরিবেশে আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম চক্রে বাংলাদেশের প্রাপ্তি শুধুই শূন্যতা। ২০১৯ থেকে ২০২১ এ সময়ে চ্যাম্পিয়নশিপের মিশনে ৮ ম্যাচে প্রাপ্তি শুধুই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি ড্র। আজ থেকে শুরু হচ্ছে দুই বছরের জন্য নতুন এক চক্র। এক কথায় শূন্য থেকেই শুরু করতে হচ্ছে টাইগারদের। তাও সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদদের ছাড়া। পাকিস্তানের বিপক্ষে এ পর্যন্ত ৯টা টেস্ট ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। টাইগারদের একমাত্র অর্জন ২০১৫তে খুলনা টেস্টে ড্র। বাকি সবগুলোই হার। তবে নানা আলোচনা-সমালোচনা উপেক্ষা করে অধিনায়ক মুমিনুল দারুণ প্রত্যয়ী। চ্যালেঞ্জটা মোটেও কঠিন মানতে রাজি নন অধিনায়ক। মুমিনুল বলেন, ‘কঠিন বললে নেতিবাচকভাবে নেয়া হয়ে যাবে। তবে অবশ্যই, আমাদের দলের সিনিয়ররা না থাকলে তো সমস্যা। তামিম ভালো শুরু করলে ব্যাটিং ভালো হয়। সাকিব ভাই একের ভেতর দুই। তাসকিন খুব ভালো বল করছিল। রিয়াদ ভাইও নেই। প্রায় চারটা খেলোয়াড় নেই। চ্যালেঞ্জিং হবে আমাদের জন্য। তবে জুনিয়রদের জন্য ভালো সুযোগ। আমাকে, মুশফিক ভাইকে বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। টেস্ট ক্রিকেটে আমাদের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে সেটা হয়তো এই সিরিজ বা পরবর্তী সিরিজ দিয়ে বুঝতে পারবেন। অবশ্যই সেকেন্ড সার্কেলের প্রথম সিরিজ খুব চ্যালেঞ্জিং হবে। এটা আমি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ের পরই তো বলেছিলাম।’হ্যাঁ, নতুন মুখ নিয়ে মুমিনুলকে লড়াইয়ের পরিকল্পনা আঁটতে হবে। যে কারণে হঠাৎ করেই তরুণ মাহমুদুল হাসান জয় বেশ আলোচনায়। গেল দুইদিন নেটে তাকে নিয়ে দারুণ ব্যস্ত প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো থেকে শুরু করে কোচিং স্টাফরা। শোনা যাচ্ছে আজ ওপেনার হিসেবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী এই তরুণের অভিষেক হতে পারে। তাকে দেখা যাবে সাদমান ইসলাম অনিকের সঙ্গে। তবে টেস্টের আগে ঘুরে ফিরে আলোচনায় আসছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওপেনিংয়ের ব্যর্থতার গল্প। কিন্তু অধিনায়ক মুমিনুল দুটিকে মেলাতে নারাজ। ‘ওপেনিং নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘বিশ্বকাপে টি-টোয়েন্টি খেলা ছিল, আর এটা টেস্ট। পুরো ভিন্ন ফরমেট। তাই এটা নিয়ে আমি চিন্তা করছি না। টেস্ট আর টি-টোয়েন্টির ওপেনাররা পুরোপুরি ভিন্ন। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। ব্যাকআপ ওপেনার হিসেবে আমরা আপাতত জয়কেই নিয়েছি। যদি খেলে ওপেনার হিসেবেই খেলবে।’ তবে কথা হচ্ছে ভিন্ন, তামিম না থাকায় ওপেনিংয়ে সাইফ হাসানকেই দেখার কথা ছিল। কিন্তু টি-টোয়েন্টি হুট করে তার অভিষেক করিয়ে কোনো ফল আসেনি। এখন সীমিত ওভারে তার ব্যর্থতাকে টেস্টে বড় করেই দেখা হচ্ছে। যা দেশের ক্রিকেটে জন্ম দিচ্ছে হাস্যকর ঘটনার। আবার নতুনদের দলে নিয়েও চমক সৃষ্টি করলেও তাদের খেলানো হচ্ছে না একাদশে। এর বড় বলি ইয়াসির আলী চৌধুরী রাহী। টি-টোয়েন্টির পর তাকে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াডেও রাখা হয়েছে। তবে তার অভিষেক হচ্ছে না এমনটাই খবর। এ ছাড়াও দলে নেয়া হয়েছে নতুন মুখ রেজাউর রহমান রাজাকে নিয়ে কি পরিকল্পনা তাও স্পষ্ট নয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ মিশনে পরীক্ষা-নিরীক্ষাও যে খেসারত হতে পারে সেটিও ফেলে দেয়া যায় না। এক কথায় দল গঠনের সঙ্গে একাদশ সাজানোতে যে স্পষ্ট অপরিপক্বতা কিংবা অদূরদর্শী ভাবনা তা স্পষ্ট। তবে জয় থেকে শুরু করে সাইফ হাসান, লিটন সবার সঙ্গে ইন্ডিভিজুয়ালি কাজ করেছেন কোচরা। লিটনকে নিয়ে একটু বেশি মনোযোগী ছিলেন ডমিঙ্গো। শর্টার ফরমেটে ফর্মহীনতায় দল থেকেই বাদ পড়েছেন লিটন। তবে সাদা পোশাকে শেষ কয়েকটা ম্যাচে অনেকটা ধারাবাহিক। গতকাল অনুশীলন শুরুর আগে রুটিন মাফিক উইকেট দেখে নিয়েছেন তিন টাইগার মাস্টার মাইন্ড খালেদ মাহমুদ সুজন, রাসেল ডমিঙ্গো আর অধিনায়ক মুমিনুল। চাওয়া অনুযায়ী হবে তো উইকেট! সেটা নিয়েই পিচ কিউরেটরের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা মুমিনুলের। সাগরিকার উইকেট অনেকটা স্পোর্টিং। তবে স্পিনাররা একটু বেশি সহায়তা পেয়ে থাকেন। অন্তত উইকেট শিকারির তালিকা সেটাই বলছে। এই মাঠে সেরা দশ উইকেট টেকারের আটজনই স্পিনার। ১৭ ম্যাচে ৬০ উইকেট শিকার করে সবার উপরে সাকিব। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার নেই। দায়িত্বটা তাইজুল আর মিরাজের ওপর। জহুর আহমেদে ৮ ম্যাচে তাইজুলের শিকার ৩০টা, ৬ ম্যাচে মিরাজের ঝুলিতে আছে ২৭টা উইকেট। এই মাঠে সর্বোচ্চ দলীয় রানের রেকর্ড ৭১৩, যা ২০১৮ তে করেছিল শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের ৫শ’ পেরোনো ইনিংস আছে তিনটা। লঙ্কানদের বিপক্ষে ঐ ম্যাচেই নিজেদের সর্বোচ্চ ৫১৩ করেছিল মুমিনুলরা। চারশ’ ছাড়ানো জুটি আছে একবার, দুইবার করে আছে দুই আর তিনশ’ ছাড়ানো পার্টনারশিপ। এই মাঠে ব্যাট হাতে টেস্টের দুই সেরা ব্যাটসম্যান মুমিনুল ও মুশফিকুর রহীম।  দারুণ মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে মুশফিকুর রহীম। ৯২ রান করতে পারলেই তামিম ইকবালকে টপকে দেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ রানের মালিক বনে যাবেন। অন্যদিকে বোলিংয়ে তিন স্পিনারের সঙ্গে দুই পেসার। ঘূর্ণিম্যানদের এই তিনজনই নিশ্চিত। পেস অ্যাটাকে দুই সিলেটি রাহী আর ইবাদতেই ভরসা। যদিও নয়া মুখ রেজাউর রাজাকে মনে ধরেছে ক্যাপ্টেনের। বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাস একেবারে তলানিতে।  উইকেট আর একাদশ নিয়ে বাংলাদেশের ভাবনার শেষ নেই। অন্যদিকে সফররত পাকিস্তান একেবারেই রিলাস্ক, ম্যাচের ২২ ঘণ্টা আগেই সেরা ১২ জনের নাম ঘোষণা করেছে তারা। যেখানে নেই দুই ভয়ঙ্কর পেসার মোহাম্মদ আব্বাস আর নাসিম শাহ। শাহিন আফ্রিদি আর হাসান আলির সঙ্গে পেস অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফ। স্পিনে নুমান আলি আর সাজিদ খানে আস্থা রেখেছে পাক ম্যানেজমেন্ট।
সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন
এই সম্পর্কিত

ঢাকা টেস্টে ফিরতে অনুশীলনে সাকিব

বাংলা ট্রিবিউন | চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম
১৩ ঘণ্টা, ৫ মিনিট আগে