কুইক লিঙ্ক : মুজিব বর্ষ | করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব | প্রিয় স্টোর

চিকিৎসা ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা সংসদে

মানবজমিন প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০

দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। গতকাল বিল পাসের প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে চিকিৎসকরা কেন রাজনীতি করবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তারা। চিকিৎসার বিল দিতে না পারায় বেসরকারি হাসপাতালগুলো রোগী আটকে রাখে বলেও অভিযোগ করেন। অবশ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে স্বাস্থ্য খাতে সরকারের সফলতার চিত্র তুলে ধরেন। দেশের নাগরিক হিসেবে রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে বিরোধী দলের সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ডাক্তারদের এসোসিয়েশন রয়েছে। স্বাচিপ, বিএমএ রয়েছে। রাজনীতি তো সকলেই করতে পারে। প্রকৌশলী, আইনজীবীরা রাজনীতি করতে পারে। সেই অনুযায়ী চিকিৎসকরা তাদের এসোসিয়েশন করলে, তাতে কোনো দোষ বা অন্যায় দেখি না। তারা তো সেবা দিচ্ছেন। তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো করোনায় সেবা দিয়েছে। সেখানকার চিকিৎসা ফি নির্ধারণে আমরা বৈঠক করছি। আশাকরি সেটার সমাধান হবে। জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে। আর বিমানবন্দর জায়গা দেবে। আমরা শুধু কারিগরি সহযোগিতা দেবো। দুই একদিনের মধ্যে বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হবে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদা দেশের প্রতিটি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ হবে। সেটা পর্যায়ক্রমে হবে। সেই অনুযায়ী ৩৮টি মেডিক্যাল কলেজের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আস্তে আস্তে সব জেলায় হয়ে হবে। এর আগে বিলের উপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, বিএনপি করে গিয়েছিল ড্যাব, আওয়ামী লীগ এসে করেছে স্বাচিপ। সেক্ষেত্রে আমরা কী কারণে বসে থাকছি? এই আইনের মধ্যে যদি উনি আনতো যে ডাক্তাররা এবং বৈজ্ঞানিকরা রাজনীতি করতে পারবে না তাহলে খুব খুশি হতাম। কিন্তু সেটা আনা হয়নি। ডাক্তাররা যদি এই দেশে রাজনীতি করে তাহলে আমরা কী করবো? ওনারা চলে আসুক রাজনীতি করতে। যারা ভালো ছাত্র তারা ডাক্তারি পড়ে, কিন্তু তারা যদি রাজনীতি করে তাহলে আমরা সেবা বঞ্চিত হচ্ছি। স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বেহাল দশা চলছে উল্লেখ করে বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, দেশের পঞ্চাশ বছরেও সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে কোনো পার্থক্য করতে পারিনি। যারা আজকে সরকারি হাসপাতালে কর্মরত তারাই আজকে বেসরকারি হাসপাতালের ব্যবসা করছে। তিনি বলেন, এতগুলো বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন, এগুলো মানসম্মত? আজকে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে যারা শিক্ষা অর্জন করছে, তারা ক’জন বিসিএসে টিকছে? ২০১৩ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে যে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে, এই ব্যাপারে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন? সিআইডি’র রিপোর্ট অনুযায়ী, সেখানে লাগাতার ৭ বছর অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, করোনাকালে অর্থনৈতিকভাবে কতোগুলো পরিবার পঙ্গু হয়ে গেছে সেই খবর কি আমাদের কাছে আছে? করোনায় সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়ে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে নিরুপায় হয়ে মানুষ বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে একেবারে সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে। অনেকে প্রাণে হয়তো বেঁচে গেলেও অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে গেছে। জমানো টাকা শেষ হওয়া থেকে শুরু করে বিরাট ঋণের জালে আটকা পড়েছে বহু মানুষ। করোনার আগে যেখানে মধ্যবিত্ত ছিল ৭০ শতাংশ সেখানে মধ্যবিত্ত নেমে দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশ। দরিদ্র মানুষ যেখানে ছিল ২০ শতাংশ সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ শতাংশ। বেসরকারি মেডিক্যালে গিয়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার ইতিহাস কিন্তু নতুন কিছু নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, চিকিৎসকরা রাজনীতি করছেন। আমরা রাজনীতি করি, রাজনীতিবিদের জায়গায় থাকবো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইনশৃঙ্খলার জায়গায় থাকবে। ডাক্তাররা ডাক্তারদের জায়গায় থাকবে। তিনি আরও বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো যেভাবে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে টাকা রোজগারের একটি পথ খুলে নিয়েছে, সেখানে মানুষগুলো নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক বলেন, ডাক্তাররা বিসিএস অফিসার হয়ে তার ডিউটির পর যদি প্রাইভেট প্র্যাকটিস করে সেক্ষেত্রে তার যে মূল কাজ সেটা ঠিক থাকে না। এটা দীর্ঘদিনের একটা সমস্যা। মন্ত্রীকে বলবো যদি উপকার করতে চান তাহলে ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসটা আপনারা দয়া করে বন্ধ করার চেষ্টা করেন। জনগণের পয়সা দিয়ে তাদের বেতন দেবেন, তারা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করবেন; এটা আমরা করতে পারি না। ভর্তির জন্য বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে অন্যায়ভাবে টাকা নেয়া বন্ধের দাবি জানান তিনি। জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান বলেন, বেসরকারি মেডিক্যাল ও হাসপাতালে চিকিৎসা করতে গিয়ে অনেক মানুষ নিঃস্ব হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতাল চিকিৎসা ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই। টেকনোলজিস্টের ব্যাপক সংকট। ২০২০ সালের পরীক্ষার ফলাফল এখনো দেয়া হয়নি। অনেক মেশিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রত্যেক এয়ারপোর্টে পিসিআর ল্যাব দিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দেয়ার পরও প্রবাসীদের ঘেরাও করতে হয়েছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও