কুইক লিঙ্ক : মুজিব বর্ষ | করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব | প্রিয় স্টোর

ভূ-পৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট পাঠাবে বাংলাদেশ

মানবজমিন প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০

স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ নিয়ে অবশেষে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ হতে যাচ্ছে ভূ-পৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট। ইংরেজিতে এই স্যাটেলাইটের নাম দেয়া হয়েছে আর্থ অবজারভেশন (ইও)। কারিগরি সহায়তার কারণে এবারের স্যাটেলাইটটি হতে যাচ্ছে জি টু জি পদ্ধতিতে। অর্থাৎ আরেকটি দেশের সহায়তা নিয়ে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করবে বাংলাদেশ। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ থাকবে সম্পূর্ণ বাংলাদেশের হাতে। তবে কোন দেশের সঙ্গে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বেশ কয়েকটি দেশের নাম তালিকায় রয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভূ-পৃষ্ঠ সম্পূর্ণ নজরদারিতে আনা সম্ভব হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে মিয়ানমারের কাছ থেকে পাওয়া বিশাল সমুদ্র সীমানা ঘিরে কাজ করবে স্যাটেলাইটটি। পাশাপাশি দেশের কোন অঞ্চলে বন্যা ও খরার পরিস্থিতি কি তা খুব সহজেই ধরা যাবে এর মাধ্যমে। এ ধরনের স্যাটেলাইটকে অনেকটা ব্যতিক্রমী বলে মনে করছে বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা হবে। দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর তুলনায় এর নির্মাণ খরচ অনেক কম হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। চলতি বছরের ১৯শে জানুয়ারি মহাকাশে স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণের জন্য স্যাটেলাইটের ধরন ও প্রকৃতি নির্ধারণে ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠান প্রাইজ ওয়াটার হাউজ কুপার্সের সঙ্গে চুক্তি সই করে সরকার। এতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরীয়ার আহমেদ চৌধুরী ও প্রাইজ ওয়াটার হাউজ কুপার্স অ্যাডভাইজরি এসএস ড. লুইগী স্ক্যারিয়া। গত মে মাসে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশকে আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট পাঠানোর পরামর্শ দেয়। পরামর্শ অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন ওই স্যাটেলাইট নির্মাণ নিয়ে অফিসিয়ালি কার্যক্রম শুরু করেছে। পরামর্শক নিয়োগে ব্যয় প্রসঙ্গে বিএসসিএল’র চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ জানান, প্রথমে ২১টি দরখাস্ত জমা পড়েছিল। এর মধ্যে প্রথম শর্ট লিস্টে রাখা হয় সাতটি প্রতিষ্ঠানকে। প্রাইস ঠিক করার কথা বলা হলে বিএসসিএল’র সঙ্গে যোগাযোগ করে চারটি কোম্পানি। তিনি বলেন, এর মধ্য থেকে প্রাইস ওয়াটার হাউজ কুপার্স অ্যাডভাইজরি এক লাখ ৮৫ হাজার ডলারে আমাদের সঙ্গে চুক্তি করে। এটিই সবচেয়ে কমদামে ভালো পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। বঙ্গবন্ধু-২ স্যাটেলাইট প্রসঙ্গে ড. শাহজাহান মাহমুদ মানবজমিনকে বলেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হবে। এই স্যাটেলাইট হবে আর্থ অবজারভেশন। এর কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের বিশাল সমুদ্র সীমানা রয়েছে। যার আয়তন বাংলাদেশের চেয়েও বড়। এটা আমাদের দেশের জন্য বিরাট এক সম্পদ। এটাকে পাহারা দেয়া বা নজরদারি করা সম্ভব হবে ওই স্যাটেলাইট দিয়ে। অর্থাৎ সমুদ্র সম্পদকে রক্ষা করতে স্যাটেলাইটটির ভূমিকা থাকবে। পাশাপাশি আবহাওয়ার অনেক তথ্যও পাওয়া যাবে। এ ছাড়া আগাম বন্যা, খরা সম্পর্কে জানতে স্যাটেলাইটটি আমাদের দারুণ কাজে লাগবে। আসলে এটা আমাদের জন্য ভিন্ন ধরনের একটি স্যাটেলাইট। এ ছাড়া ভূ-পৃষ্ঠ সম্পর্কিত গবেষণার কাজেও ব্যবহার করা হবে স্যাটেলাইটটি। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে অন্যান্য প্রকৃতি, প্রয়োজন, চাহিদা ও ধরনের স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ মহাকাশে উৎক্ষেপণের ঘোষণা দেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ইশতেহার অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মধ্যে এটির কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালের ১২ই মে মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ মহাকাশে পা রাখে। এর মাধ্যমে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে স্যাটেলাইটের অভিজাত ক্লাবে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। এতে বাংলাদেশের খরচ হয়েছিল ২ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। মহাকাশে বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ একটি কমিউনিকেশন্স স্যাটেলাইট। এটি মূলত নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখতে এবং টিভি চ্যানেলের সমপ্রচারে মূল ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশে প্রথম স্যাটেলাইট নিয়ে কাজ শুরু হয় ২০০৭ সালে। সে সময় মহাকাশের ১০২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে কক্ষপথ বরাদ্দ চেয়ে জাতিসংঘের অধীন সংস্থা আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নে (আইটিইউ) আবেদন করে বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের ওই আবেদনের ওপর ২০টি দেশ আপত্তি জানায়। পরে ২০১৫ সালের ১১ই নভেম্বর ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। স্যাটেলাইটের কাঠামো তৈরি, উৎক্ষেপণ, ভূমি ও মহাকাশের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ভূ-স্তরে দুটি স্টেশন পরিচালনার দায়িত্ব এ প্রতিষ্ঠানটির। স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ এবং তা কক্ষপথে রাখার জন্য রাশিয়ার ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে কক্ষপথ (অরবিটাল স্লট) কেনা হয়েছে। মহাকাশে এ কক্ষপথের অবস্থান ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে সম্পাদিত চুক্তির ভিত্তিতে প্রায় ২১৯ কোটি টাকায় ১৫ বছরের জন্য এ কক্ষপথ কেনা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৭৫ সালের ১৪ই জুন বেতবুনিয়ায় উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নে বাংলাদেশের সদস্য পদ অর্জনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিস্ময়কর দূরদর্শিতা ছিল।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও