কুইক লিঙ্ক : মুজিব বর্ষ | করোনা ম্যাপ | করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব

আমি একেবারে একলা মানুষ

প্রথম আলো মতিউর রহমান প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৯:৩৯

ষাটের দশকে প্রথম ছবি সুতরাং দিয়েই দর্শকদের হৃদয় হরণ করেছিলেন কবরী। এরপর ছবির পর ছবিতে দিগ্বিজয়ের পালা। তাঁর চলচ্চিত্রের অর্ধশতক আশ্চর্য সফলতার গল্প—অভিনয়ে, প্রযোজনায়, পরিচালনায়। চলচ্চিত্রজগৎ থেকে রাজনীতির আঙিনায় এসে হয়েছিলেন সাংসদ। ২০১৯ সালের ৬ মে আলাপনে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের কাছে তিনি মেলে ধরেছিলেন অন্তরের ঝাঁপি। কবরীর সাক্ষাৎকারটি ছাপা হয়েছিল ২০১৯ সালে প্রথম আলোর ঈদ সংখ্যায়। সারাহ বেগম কবরী করোনায় আক্রান্ত হয়ে গতকাল শুক্রবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।


মতিউর রহমান: আপনি ছিলেন মিনা পাল, হলেন কবরী। মিষ্টি মেয়ে বলেও আপনাকে অনেকে ডেকে থাকেন। আপনার সিনেমাজগতে কাটানো প্রায় ৫৫ বছরের জীবনটা কেমন ছিল?


কবরী: জীবন তো এ রকমই। প্রত্যেকের জীবনেই আলাদা বিষয়বস্তু, দুঃখ-কষ্ট আর অনেক ঘটনা থাকে। আমার জীবনও সেভাবেই গড়ে উঠেছে। ছোটবেলায় একেবারে না বুঝে পরিবারে ভাইবোনদের সঙ্গে গল্প করতাম। সে সময় এক ধরনের জীবন ছিল। আসলে মা-বাবা, ভাইবোন - এরা মিলেই তো পরিবার। কত আনন্দে সময় কেটেছে! একটা সময়, কিছু শব্দ, কিছু পৃষ্ঠা - এর ভেতরেই তো আমার জীবনকাহিনি। জীবনের পুরোটা সময় তো আর কাজ করতে পারিনি। কাজ করেছি নির্দিষ্ট একটা সময়ে। এখন যদি আমার বয়স ৬০ বছরের বেশিও ধরি, এই সময়ে অনেক কাজ আমি করেছি। শুধু চলচ্চিত্র নয়, নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক কাজেও অংশ নিয়েছি।প্রথম থেকে যদি ধরি, আমি বেড়ে উঠেছি, স্কুলে পড়েছি, সিনেমায় কাজ করেছি, পাশাপাশি সামাজিক কাজও করেছি। মা হয়েছি। পাঁচ সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়েছি। তাদের মানুষ করেছি। বলতে পারেন, আমি একেবারে একলা মানুষ। একলা আমার জীবন। চলতে চলতে অনেকের সঙ্গে জড়িয়েছি। ভালো মানুষের সঙ্গে যেমন মিশেছি; আবার চলার পথে অনেক মন্দ মানুষেরও পরিচয় পেয়েছি। ওরা আমাকে আঁকড়ে ধরে নিজেদের লাভ খুঁজেছে। জীবন অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এখন আমার পুরোনো স্মৃতিগুলো দূরে সরে যাচ্ছে। যোগ হচ্ছে নতুন স্মৃতি। প্রতিমুহূর্তেই আমি আমার সামনে একটা নতুন পৃথিবী দেখতে পাচ্ছি।মানুষের জীবনে অনেকগুলো দরজা থাকে। তার মধ্যে মৃত্যু হলো শেষ দরজা। মৃত্যুর কথা মনে হলে আমার চোখ জলেতে ভরে যায়। কবরী আর কোনো দিন ফিরে আসবে না, সামান্য একটু কথা বলতেও নয়। সবাইকে ছেড়ে চিরকালের জন্য চলে যেতে হবে, ভাবলেই ভয় লাগে। তাই মৃত্যুর আগপর্যন্ত মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। যত দিন বাঁচব, মানুষের কাছে আপন হয়ে থাকতে চাই, মানুষের কাছাকাছি থাকতে চাই। আরও কিছু উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।


মতিউর: জীবন নিয়ে এই যে এত সুন্দর কতগুলো কথা বললেন। এ দীর্ঘ জীবনটা কি আপনি উপভোগ করেছেন? আনন্দ পেয়েছেন?


কবরী: আনন্দ পেয়েছি। আনন্দ না পেলে তো জীবনটাকে উপভোগ করতে পারতাম না। জীবনে আনন্দ ছিল বলে কষ্টটাকেও বুঝতে পেরেছি। যখন কোনো কাজ করতে গিয়ে বাধা পেয়েছি, তখন খুব আঘাত পেয়েছি।


আমার একটা দুঃখ রয়ে গেল, জীবনে আমি একজন ভালো বন্ধু পেলাম না, ভালো স্বামী পেলাম না। সন্তানেরা অনেকটা যার যার মতো করে আছে। কিন্তু সঙ্গ দেওয়ার মতো একজন ভালো মানুষ আমি পাইনি, যাকে বলতে পারি, এসো, এক কাপ চা খাই, একটু গল্প করি। এটাই হয়তো মানুষের জীবন। তবে মানুষের চাওয়ার তো শেষ নেই। মনে হয়, যদি আমার একজন বন্ধু থাকত, তাহলে যখন-তখন তার সঙ্গ পেতাম। এই আনন্দটুকু আমি পাইনি। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আফসোস। আমি দিতে পারি। সারা জীবন অনেক দিয়েছি। কিন্তু নিতে আমার খুবই কষ্ট। কারণ মনে হয় যে নিজে নিতে গেলে আমি ছোট হয়ে যাব। নিতে গেলে মনে হবে, আমি একজন দুর্বল মানুষ হয়ে উঠছি। যে ভালোবাসে, সব সময় সে মনে করে, ভালোবাসাটাই বড় কাজ। সব সময় মানুষকে তো দিয়েই গেলাম। কারও কাছ থেকে কিছু পাইনি। কারও কাছ থেকে কিছু চাইওনি। এই যে সবাইকে দিয়ে গেলাম, ভালোবেসে গেলাম, তার বিনিময় প্রত্যাশা করাটা অনুচিত।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও