কুইক লিঙ্ক : মুজিব বর্ষ | করোনা ম্যাপ | করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব

সড়কে, মার্কেটে মানুষের ঢল

মানবজমিন প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০

সড়কে, শপিংমলে উপচে পড়া ভিড়। ঢাকার বিভিন্ন সড়ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শপিংমল, ব্যাংক কোথাও তিল ধারণেই ঠাঁই নেই। আগামীকাল থেকেই সর্বাত্মক লকডাউন। একইদিনে পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখ ও ঈদকে সামনে রেখে বাজারে, শপিংমলে, রাস্তায় মানুষ আর মানুষ । ঢাকার বাইরে থেকেও ব্যবসায়ীরা এসেছেন পণ্য নিয়ে যেতে। কেউ কেউ এসেছেন নিজের ও পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতে। করোনায় প্রতিদিন বিপুল মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, মারা যাচ্ছে কিন্তু এসবকে কোনো তোয়াক্কা করছে না সাধারণ মানুষ। গাদাগাদি করে তারা দাঁড়িয়ে রয়েছেন বিভিন্ন ব্যাংক ও বিপণিবিতানের সামনে। একসঙ্গে দীর্ঘদিনের কেনাকাটা করছেন তারা। টাকা উত্তোলন করছেন। মুখে মাস্ক থাকলেও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না তারা।গাউছিয়া, নিউমার্কেট, চকবাজার, এলিফেন্ট রোড, মিরপুর, গুলিস্তান, নিউ বেইলী রোড, মৌচাক, তালতলা সিটি করপোরেশন মার্কেট, বসুন্ধরা শপিংমল ও যমুনা ফিউচার পার্কসহ আশপাশের মার্কেট এলাকাগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। খিলগাঁও তালতলা এলাকায় ঈদের কেনাকাটার জন্য ভিড় করেছিলেন বিভিন্ন বয়সের নারীরা। কেউ কেউ স্বামী ও বন্ধুকে নিয়ে কেনাকাটা করতে যান। একটি প্রসিদ্ধ ব্র্যান্ডের জুতার দোকানে কথা হয় মুশফিকা মাহমুদা নামে এক তরুণীর সঙ্গে। তিনি জানান, নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করতে এসেছেন তিনি। সামনে লকডাউন। এরমধ্যে আবার পয়লা বৈশাখ ও ঈদ। তিনি মনে করেন এক সপ্তাহের পরে এই লকডাউন আরো বাড়তে পারে। তাই ঈদের কেনাকাটাও যতটুকু করা সম্ভব করছেন তিনি।গুলিস্তানের পীর ইয়ামেনী মার্কেটের ব্যবসায়ী রহমান জানান, ঈদকে সামনে রেখে বিপুল পাঞ্জাবি প্রস্তুত করেছেন। দেশের বাইরে থেকেও আমদানি করেছেন। কিন্তু করোনার প্রকোপের কারণে এবারো ব্যবসায় লোকসান দিতে হবে বলে মনে হচ্ছে। তবে আশার কথা হচ্ছে এই লকডাউনের মধ্যে গত কয়েক দিনে বিপুল টাকার পাঞ্জাবি বিক্রি করেছেন তিনি। ঢাকা ও ঢাকার বাইরের ব্যবসায়ীরা তা ক্রয় করেছেন। প্রতিদিন ঢাকার বাইরের ব্যবসায়ীরা কেনাকাটা করতে আসছেন। একই কথা জানান, সিটি সুপার মার্কেটের দর্জি ঘরের মালিক রাকিব হাসান।দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা ভিড় করছেন, গুলিস্তান, চকবাজার, সদরঘাট ও পল্টনে। এসব মার্কেটে, শপিংমলে ঘুরে দেখা গেছে, কেনাকাটা করতে আসার অনেকেই ভুলে গেছেন এখন করোনাকাল। করোনা প্রতিরোধের জন্যই সরকার লকডাউন ঘোষণা করেছে। এদিকে, খুচরা ক্রেতাদের ভিড়ে গাউছিয়া, চাঁদনী চক, নিউমার্কেটে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা দূরে থাক একে-অন্যের ঘা ঘেঁষে, গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে এসব মার্কেটে কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা। চাঁদনি চক মার্কেটের মূল ফটকে বসানো হয়েছে জীবাণুনাশক টানেল। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকেই সেটি অকেজো। ফটকের সামনে  হ্যান্ডস্যানিটাইজার নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন নিরাপত্তাকর্মী। মাঝে-মধ্যে তা ক্রেতাদের হাতে দিচ্ছেন তিনি।সামনে সর্বাত্মক লকডাউনের খবরে অনলাইন শপগুলোও পণ্য সংগ্রহ করছে তুলনামূলক বেশি। দেশের প্রথম সারির অনলাইন শপ ‘পিক এন্ড পেমেন্ট’র পরিচালক শরীফ সাব্বির জানান, প্রতি বছরই ঈদ সামনে রেখে এক্সক্লুসিভ কালেকশন থাকে আমাদের। এবার করোনা ও লকডাউনের কারণে গুরুত্ব দিয়ে পণ্য সংগ্রহে রাখা হয়েছে। ইন্ডিয়া থেকে এক্সক্লুসিভ পাঞ্জাবি আমদানি থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন কারখানার পণ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মৌচাক ও ফরচুন শপিংমলে দেখা গেছে, ভিড় করছেন নারীরা। শাড়ি থেকে শুরু করে নানা ধরনের পোশাক ক্রয়ে ব্যস্ত তারা। কেউ কেউ মাস্ক খুলে তা হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। টিসিবি’র পণ্য কিনতেও অন্যান্য সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মানুষ ভিড় করছেন। রামপুরা এলাকায় টিসিবি’র ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে যাওয়া রফিকুল জানান, সামনে সর্বাত্মক লকডাউন। সব বন্ধ থাকবে। তাই যতটুকু পারছি চাল, ডাল, তেল, লবণ বাসায় নিয়ে রাখছে। পরে কি হয় কে জানে।লালবাগের খাজে দেওয়ান লেনের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি এক মাসের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করে রেখেছেন। কারণ হিসেবে জানান, লকডাউনে বাসা থেকে বের হওয়া যাবে না। যানবাহন চলবে না, তাই পণ্যের দামও বেড়ে যেতে পারে। তাই লকডাউনের আগেই কেনাকাটা করেছেন তিনি। কাওরানবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার মুদি দোকানগুলোতে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করেই পণ্য বিক্রি করছেন তারা। মাস্ক ব্যবহার করলেও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখছেন না তারা। কেনাকাটা করতে বাসা ও বাইরে আসা বিপুল মানুষের কারণে যানজটও প্রকট আকার ধারণ করেছে গত দু’দিন যাবৎ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় কেটেছে। চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন রোগী, নারী, শিশু ও বয়স্করা। যানজট ছিল সড়ক থেকে শুরু করে ফ্লাইওভারগুলোতেও। লাইন বেঁধে রাস্তায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়েও গণপরিবহনের দেখা পাননি অনেকে। সড়কে, শপিংমলে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো তোয়াক্কা নেই সাধারণ মানুষের। যদিও সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)’র তথ্যানুসারে বাজার ও গণপরিবহন থেকে সর্বোচ্চ করোনা সংক্রমণ হচ্ছে বলে। আইইডিসিআরের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাজার ও গণপরিবহন থেকে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে ৬১ শতাংশ। অন্যদিকে জনসমাগম স্থল থেকে করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি শতকরা ৩৫ ভাগ। গত ৫ই মার্চ থেকে ৫ই এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে আট হাজার করোনা রোগীর তথ্য পর্যালোচনা করে এসব জানা গেছে। পাটুরিয়া ঘাটে প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাসের অতিরিক্ত চাপ স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ জানান, করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর লকডাউন ঘোষণার পর থেকে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে ঢাকা ছাড়ছেন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। এ ছাড়া লকডাউনের সুযোগে ব্যক্তিগত ছোট গাড়ির মালিকরা তিনগুণ ভাড়া আদায় করে যাত্রী আনা-নেয়া করছেন। সোমবার সকাল থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও পাটুরিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ছোট যানবাহনের ভেতর গাদাগাদি করে এবং নির্ধারিত ভাড়ার চাইতে তিন-চারগুণ বেশি ভাড়া নিয়ে যাত্রী নেয়া হচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, রাস্তায় ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য চালানো হলেও দেখার কেউ নেই। সাধারণ সময় গণপরিবহনে পাটুরিয়া থেকে সর্বোচ্চ ১২০ টাকা ভাড়া নেয়া হতো। কিন্তু লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে ভাড়া জনপ্রতি নেয়া হচ্ছে ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া মোটরসাইকেলেও যাত্রী আনা-নেয়া বাবদ ঢাকা থেকে হাজার পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। এদিকে লকডাউনের কারণে পাটুরিয়া ঘাটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকলেও ফেরি চলাচল করছে। সাধারণ যাত্রীরা ফেরিতে গাদাগাদি করে নদী পার হচ্ছে। পাটুরিয়া ঘাট কর্তৃপক্ষ জানান, ১৪ তারিখ থেকে কঠোর লকডাউন ঘোষণার পর থেকেই পাটুরিয়া ঘাটে ছোট গাড়ি অর্থাৎ প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, জরুরি পণ্যবাহী ট্রাকে চাপ বেশি পড়ছে। সোমবার সকাল থেকে এসব গাড়ির অতিরিক্ত চাপের পাশাপাশি যাত্রীর চাপও অনেক বেশি। ফলে ১৪টি ফেরি দিয়ে এসব যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। পাটুরিয়া ঘাটে সকাল থেকে আটকে আছে প্রায় দুই শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক। শিমুলিয়াঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ জানান, দ্বিতীয় ধাপে লকডাউনকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়াঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। সোমবার ভোররাত থেকে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে ঢাকামুখো যাত্রীদের চাপ বেশি থাকলেও সকাল থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লকডাউনে বাড়ি ফেরা মানুষের চাপ বাড়তে থাকে ঘাট এলাকায়।তবে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌ-রুটে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় স্বাস্থ্যবিধি অপেক্ষা করে পদ্মা পাড়ি দিতে ফেরিগুলোতে দেখা গেছে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। এ ছাড়াও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক যাত্রী ট্রলারযোগে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছেন।বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়া ঘাটের সহ উপ-ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম  জানান, সকাল থেকে ১৪টি ফেরি দিয়ে এই রুটে চলছে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার। সকাল থেকে ঘাট এলাকায় পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে ৪ শতাধিক যাত্রীবাহী ছোট প্রাইভেটকার ও কয়েক শতাধিক পণ্যবাহী যানবাহন। লকডাউনের আশঙ্কায় বেশির ভাগ  যাত্রীরা বাড়ি ফিরছেন। ফলে লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় ফেরিগুলোতে যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান তিনি।বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কের ৪০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটসিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কের ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম গোলচত্বর, সয়দাবাদ, মুলিবাড়ী, কড্ডার মোড় ও নলকা এলাকায় এ চিত্র দেখা গেছে। তবে বেলা সাড়ে ১১টার পর যানজটের তীব্রতা আরো বেড়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে উত্তরের যাত্রীরা। হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী বলেন, ১৪ তারিখ সারা দেশে কঠোর লকডাউন দিচ্ছে সরকার। এ কারণে রোববার থেকে বিভিন্ন  জেলার বিপুল সংখ্যক যানবাহন রাস্তায় নেমেছে। ফলে এ মহাসড়কে দফায় দফায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়াও রাত থেকে সকাল পর্যন্ত মহাসড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে যানবাহন বিকল ও দুর্ঘটনা ঘটে। বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসাদ্দেক হোসেন জানান, সয়দাবাদ, মুলিবাড়ীর পশ্চিম থেকে হাটিকুমরুল গোলচত্বর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট রয়েছে। তবে  বঙ্গবন্ধু সেতু গোলচত্বর থেকে মুলিবাড়ী পর্যন্ত ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে। কতোক্ষণ নাগাদ এ যানজট নিরসন হবে তা বলা মুশকিল।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও