কুইক লিঙ্ক : মুজিব বর্ষ | করোনা ম্যাপ | করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব

যেভাবে দ্বিতীয় যাত্রা নায়ার কবিরের

মানবজমিন প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০

জাঁকজমক আয়োজন, আনন্দঘন পরিবেশ, সুধীজনদের ভিড়। দায়িত্বভার গ্রহণের চিত্রটা এরকমই হওয়ার কথা ছিল। তার বদলে অশ্রুসজল চোখ। মঞ্চ-মিলনায়তনের বদলে খোলা আকাশের নিচেই দায়িত্ব নিতে হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর পরিষদকে। বৃহস্পতিবার পৌর ভবনের সামনে দায়িত্ব গ্রহণের এই ভিন্ন আয়োজনে ছিল বিষাদের ছায়া। হেফাজতের হরতাল-আন্দোলনে তাণ্ডব চালানো হয় এই পৌরভবনে।  সাজসজ্জায় যে মিলনায়তনের চেহারা থাকার কথা ছিল অন্যরকম, সেটি পুড়ে কয়লা। ভাঙচুর আর আগুনে পুড়ে শেষ হয় সবই। নাগরিকসেবা প্রদানের কোনো কিছুই রক্ষা হয়নি। পুরো পৌরভবন জুড়ে ছাইভস্মের চিহ্ন।  প্রায় ৭২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান পৌরসভার কর্মকর্তারা। হামলা হয় মেয়রের বাসাতেও। পৌরভবনের সামনের রাস্তায় দুটি তাঁবুতে খোলা হয়েছে অস্থায়ী কার্যালয় ও তথ্যসেবা কেন্দ্র। এমনি বিপর্যস্ত অবস্থায় দায়িত্ব কাঁধে নিলো নতুন পৌর পরিষদ। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত মেয়র নায়ার কবির আসেন পৌর প্রাঙ্গণে। ভবনের সামনের রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে আধঘণ্টায় শেষ হয় তার আর কাউন্সিলরদের দায়িত্বভার গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা। এর আগে ২৩শে মার্চ চট্টগ্রামে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে শপথ নেয় এই পৌর পরিষদ। দায়িত্ব গ্রহণের পর মেয়র নায়ার কবির ঘুরে ঘুরে দেখেন জ্বলে পুড়ে যাওয়া সবকিছু। প্রতিক্রিয়ায় জানান, এমনটি হবে কখনো ভাবতে পারিনি। অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। এভাবে তারা সবকিছু জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিলো কোন্‌ আক্রোশে। সেটিই আমার প্রশ্ন। অথচ যুগ যুগ ধরে এই পৌরভবন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন অফিসে কার্যক্রম চলেছে। কিন্তু এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি। দায়িত্ব নিতে আসা কাউন্সিলর মো. ফারুক মিয়া ও মীর মো. শাহিন এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন।  নায়ার কবির দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হয়েছেন গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে। পৌর ভবন ও মেয়রের বাসায় হামলার জন্য ঘটনার পর থেকে হেফাজত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজনকে দায়ী করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন পৌরসভার সচিব মো. শামসুদ্দিন। এসময় নির্বাচিত কাউন্সিলররা ছাড়াও পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। ২৮শে মার্চ পৌর ভবনে হামলার আগে ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে পৌরসভার বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে হামলা হয়। শাবল দিয়ে খুঁচিয়ে ভাঙা হয় বঙ্গবন্ধুর ৩টি ম্যুরাল। স্কয়ারের ফোয়ারাতে থাকা ৯টি সাবমার্সিবল পাম্প আগুনে পোড়ানো হয়। পৌর মুক্তমঞ্চের গ্রানাইট পাথর, ৫০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি, ২০টি ফ্লাড লাইট ভাঙচুর করা হয়। এরপর ২৮শে মার্চ হরতাল চলাকালে হামলা হয় পৌরভবনে। ভাঙচুর-লুটপাটের পর আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় সেখানে। এতে ৪ তলাবিশিষ্ট পৌরভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে পৌরভবনের আসবাবপত্র বলতে কোনো কিছুই নেই। আগুনে ছাই হয়ে গেছে সব রেকর্ডপত্র। এরপর থেকেই বন্ধ রয়েছে সব ধরনের নাগরিক সেবা। ময়লা আবর্জনা সাফসুতরো করার বেলচা পর্যন্ত লুট হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ বন্ধ থাকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত। পৌর মেয়র এই পরিস্থিতিতে নাগরিক সুবিধা দিতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন এবং এজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও