কুইক লিঙ্ক : মুজিব বর্ষ | করোনা ম্যাপ | করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব

স্বাস্থ্য বীমার আওতায় মাত্র ১ ভাগ গার্মেন্টকর্মী

মানবজমিন প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০

দেশের ৪৩ ভাগ গার্মেন্ট শ্রমিক বছরে নানা অসুখে ভোগেন। কিন্তু মোট শ্রমিকদের মাত্র ১ ভাগ আছেন স্বাস্থ্য বীমার আওতায়। বাকি ৯৯ ভাগই স্বাস্থ্য বীমার সুযোগ পাচ্ছেন না। শতকরা ৪০ জন শ্রমিক স্বাস্থ্যসেবার উচ্চমূল্যের জন্য যথাযথ সময়ে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারেন না। স্বাস্থ্য বীমার সুবিধায় আছেন মাত্র ৩৫টি কারখানার ৫৮ হাজার ২৬১ জন শ্রমিক। এ খাতে প্রায় ৪২ লাখ মানুষ কাজ করছেন। এর মধ্যে নারী কর্মীই বেশি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় এই চিত্র পাওয়া গেছে।স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের নিয়ে গবেষণার চিত্র তুলে ধরে এক অনুষ্ঠানে বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান সম্ভাবনাময় এক খাত। একে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে প্রায় ৪২ লাখ মানুষের, বিশেষত নারীদের কর্মসংস্থানের বিশাল এক বাজার। অথচ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছরে শতকরা ৪৩ ভাগ শ্রমিক বিভিন্ন অসুখে ভুগে থাকেন। অসুস্থতাজনিত অনুপস্থিতির কারণে গড়ে ৪ দিনের বেতন তাদের হারতে হয়।গবেষণায় দেখা গেছে, শতকরা ৪০ ভাগ শ্রমিক স্বাস্থ্যসেবার উচ্চমূল্যের জন্য যথাযথ সময়ে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারেন না। তৈরি পোশাক শ্রমিকদের যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্থা এবং এনজিও দীর্ঘদিন ধরে ‘তৈরি পোশাক শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা’ নামক পাইলট প্রোগ্রাম পরিচালনা করে আসছে। যেগুলোর অধিকাংশের সময়সীমা প্রায় শেষের দিকে। তাই তৈরি পোশাক শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে বড় পরিসরে তাদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য এসএনভি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের একটি দল গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।এই গবেষণার কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো তৈরি পোশাক শ্রমিকদের জন্য বড় পরিসরে স্বাস্থ্য বীমা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য প্রটোকল এবং নির্দেশিকা প্রণয়ন করা। তা বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রদর্শন করা। এই উদ্দেশ্যে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গবেষক দলটি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিবৃন্দ, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন, বিভিন্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক এসোসিয়েশন (বাডাস), বিজিএমইএ এবং শ্রমিক ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রতিনিধিদের সঙ্গে কয়েক দফা সাক্ষাৎ, কন্সালটেশন মিটিং, সেমিনার এবং কো-অর্ডিনেশন মিটিং পরিচালনা করে। গবেষণার ফলস্বরূপ দেখা যায়, বড় পরিসরে স্বাস্থ্য বীমা বাস্তবায়ন করতে হলে মূলত ব্যবস্থাপনা, অর্থের উৎস নির্ধারণ, অভিন্ন স্বাস্থ্য সুবিধা প্যাকেজ, অভিন্ন প্রিমিয়াম, গ্রিভেন্স রিঅ্যাড্রেসিং, রেগুলেটরি অ্যান্ড কমপ্ল্যায়েন্স-এ সকল বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।সংশ্লিষ্ট গবেষকরা আরো জানান, বিভিন্ন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার সময় অধিকাংশ ব্যক্তি শ্রমিক ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কেন্দ্রীয় তহবিলকে এই বীমা কার্যক্রম ব্যবস্থাপনার জন্য একটি উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সুবিধাভোগীদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের জন্য স্বাস্থ্য বীমা চালুকরণ এবং গ্রুপ বীমার বাৎসরিক প্রিমিয়ামের অর্থ প্রদান- কেন্দ্রীয় তহবিলের এই দু’টি বিধান পোশাক শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা চালুকরণের পথ অনেকটাই সুগম করে দেয়। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় তহবিলে কিছু পরিবর্ধন ও পরিমার্জন এর মাধ্যমে একটি স্বতন্ত্র ইউনিট-‘স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থাপনা ইউনিট’ স্থাপন করে কেন্দ্রীয় তহবিলকে এই গুরু দায়িত্ব অর্পণ করা যেতে পারে। এছাড়াও একটি বিকল্প প্রতিষ্ঠানের কথা আলোচনায় উঠে এসেছে। যেটাকে বলা হচ্ছে- ‘বীমা তহবিল ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান’। এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত বীমার তহবিল ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি হাসপাতাল বাছাই, বীমা কোম্পানি নির্ধারণ এবং পুরো ব্যবস্থার গুণগত মান রক্ষা করার দায়িত্ব পালন করবে। বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি বীমা তহবিল ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান কার্যক্রমের নিরীক্ষণ করবে।গবেষক দল বলছে, দীর্ঘ মেয়াদে এবং বড় পরিসরে টেকসই উপায়ে এই বীমা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শ্রমিক, মালিক এবং সরকারকে প্রিমিয়াম প্রদানে অংশগ্রহণ করতে হবে। প্রাথমিক হিসাব মতে, তৈরি পোশাক শ্রমিকদের একটা উপযুক্ত সুবিধা প্যাকেজ এর আওতায় আনতে হলে বছরে প্রায় প্রতিজনের এক হাজার টাকা প্রিমিয়াম প্রয়োজন হবে। উল্লিখিত প্রিমিয়ামের ৩৬৫ টাকা শ্রমিক, ৩৬৫ টাকা মালিক এবং বাকি ২৭০ টাকা সরকার বহন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্পের সব শ্রমিকের (৪২ লাখ) পর্যায়ক্রমে আগামী ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়। সরকার যদি স্বাস্থ্য বাজেট থেকে বছরে শ্রমিক প্রতি ২৭০ টাকা খরচ করে তাহলে ১ম (১০ লাখ শ্রমিক), ২য় (২০ লাখ শ্রমিক), ৩য় (৩০ লাখ শ্রমিক) এবং ৪র্থ বছরে (৪০ লাখ শ্রমিক) যথাক্রমে সরকারের স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ, শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ, শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ এবং শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ খরচ হবে। যা কিনা খুবই সামান্য। গবেষকরা আরো বলেন, ‘বীমা তহবিল ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান’ গঠনের মাধ্যমে তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের জন্য প্রচলিত পাইলট স্বাস্থ্য বীমা স্কিমকে সমন্বিত করে পর্যায়ক্রমে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের বীমার আওতায় আনার উদ্যোগ শুরু করা এখনই প্রয়োজন। এ বিষয়ে নীতি নির্ধারণে সর্বমহলের কার্যকরী অংশগ্রহণ একান্ত প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও