কুইক লিঙ্ক : মুজিব বর্ষ | করোনা ম্যাপ | করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব

গণফোরামের একাংশের সভা ঘিরে উত্তাপ

মানবজমিন প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০

আবারো উত্তেজনা দেখা দিয়েছে গণফোরামে। দলটির একাংশের নেতারা সভা ডাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি। আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে এই সভা হওয়ার কথা রয়েছে। পূর্ব নির্ধারিত এ সভাটি স্থগিত করার তথ্য জানিয়েছিলেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেন। তবে দলের কয়েকজন নেতা ওই তারিখেই সভা করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তারা বলছেন, সভায় দলের কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ হবে। তবে এই সভাকে এখতিয়ার বহির্ভূত বলে মন্তব্য করেছেন অন্য অংশের নেতারা। বেশকিছু দিন ধরেই গণফোরামের নেতৃত্ব নিয়ে টানাপড়েন চলছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ড. কামাল হোসেন জানান, গণফোরামের নামে প্রেস ক্লাবে শনিবার তার বা তার দলের কোনো সভা হচ্ছে না। যদিও গণফোরামের একাংশের নেতারা জানিয়েছেন যেকোনো মূল্যে তারা প্রেস ক্লাবের বর্ধিত সভা সফল করবেন। এদিন আগামী কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা করবেন তারা। গণফোরামের দুই অংশের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা হয় মানবজমিনের। সভা আহ্বানকারী পক্ষের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই নেতা জানান, প্রেস ক্লাবে বর্ধিত সভা শেষে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্‌যাপন ও দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করা হবে। ড. কামাল হোসেন যদি বর্ধিত সভা এবং কাউন্সিলে উপস্থিত না থাকেন তাহলে তিনি এবং তার পক্ষের নেতাদের বাদ দিয়ে নতুন কমিটি করা হবে বলেও জানান তারা। সভা আহ্বানকারীদের অন্যতম এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. কামাল হোসেন তিনজনের একটি চক্রে ‘জিম্মি’ হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, শনিবারে বর্ধিত সভা গণফোরামের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছে। এই মিটিং কামাল সাহেব ডেকেছেন। হল রুমও তিনি বুকিং দিয়েছেন। এখন তা স্থগিত করার কোনো কারণ নেই। জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৬শে এপ্রিল বিশেষ কাউন্সিলের পর বিরোধ প্রকাশ্যে আসে গণফোরামে। মোস্তফা মহসীন মন্টুকে বাদ দিয়ে ড. রেজা কিবরিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করার পর গণফোরাম কার্যত দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একটি অংশ কামাল হোসেনকে কেন্দ্র করে এবং দ্বিতীয় অংশটি মন্টু-সুব্রত চৌধুরীর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। ২০২০ সালের ১৩ই ডিসেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে ড. কামাল হোসেন ঘোষণা করেন গণফোরামে গত কয়েক মাসে ঘটে যাওয়া সব বহিষ্কার-পাল্টা বহিষ্কার অকার্যকর করা হচ্ছে। এরপর একই বছরের ১৯শে ডিসেম্বর বেইলী রোডে নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে তিনি জানান, তার দলে কোনো সমস্যা নেই, যা বিরোধ ছিল তা কেটে গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ৭ই ফেব্রুয়ারি গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন ড. রেজা কিবরিয়া। এদিকে দলের বাইরে গিয়ে গণফোরামের নামে কেউ কোনো বর্ধিত সভা করা এখতিয়ার রাখে না বলে জানিয়ে দলটির অন্যতম নেতা ও সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান মানবজমিনকে বলেন, উনাদের তো বর্ধিত সভা ডাকার কোনো এখতিয়ারই নাই। প্রত্যেকটা সংগঠনের গঠনতন্ত্র থাকে। আমাদেরও আছে। গঠনতন্ত্র মোতাবেক বর্ধিত সভা ডাকলে তো সভাপতি হিসেবে কামাল হোসেন স্যার ডাকবেন। শনিবার যেটা তারা করছেন, এটা তো বর্ধিত সভা হতে পারে না। নাগরিক হিসেবে তারা যেকোনো সভা সেমিনার করতে পারেন। আমরা যদি দেখি সাংগঠনিক নীতিমালার পরিপন্থি, পরে আমরা দলীয়ভাবে বসে সিদ্ধান্ত নেবো।তিনি বলেন, তারা (গণফোরামের একাংশ) আগেও সাংগঠনিক নীতিমালা অনুসরণ না করে অনেক কাজ করেছে। ওই সময় দলের পক্ষ থেকে তাদের শোকজ করা হয়েছে, বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপর তারা আবার জানান, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চান। তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এরপর তো স্যার তাদের কথা মেনে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেন। তাদের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করলেন। এরপরও তারা কী চান, সেটা কেবল তারাই বলতে পারবেন।দলটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু মানবজমিনকে বলেন, আমাদের বর্ধিত সভা হবে। একটা বিষয় পরিষ্কার যে, ড. কামাল হোসেন এখন গণফোরামের সভাপতি না। ওনি হচ্ছেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। গত সম্মেলনে গণফোরামের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন ড. কামাল হোসেন। এখন তো আর কোনো কমিটি নেই। পরে একটি এডহক কমিটি করা হলো, সেটা ভেঙে গেল। সম্প্রতি ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি এডহক কমিটি করা হলো সেটাও ভেঙে গেল। তবে সর্বশেষ ড. কামাল হোসেনসহ যারা ১১ সদস্যের এডহক কমিটিতে ছিলেন তারাই মূলত গণফোরামে কার্যকরী সদস্য আছেন। এদিকে গণফোরাম থেকে সম্প্রতি পদত্যাগ করা ড. রেজা কিবরিয়ার কাছে সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি গণফোরাম নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে আমার মনে হয় ড. কামাল হোসেনকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য কিছু লোক কাজ করছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও