কুইক লিঙ্ক : মুজিব বর্ষ | করোনা ম্যাপ | করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব

শুদ্ধ রাজনীতির দ্যুতিময় হীরে

দৈনিক আজাদী প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৪২

.tdi_2_f5f.td-a-rec-img{text-align:left}.tdi_2_f5f.td-a-rec-img img{margin:0 auto 0 0} (adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});শুদ্ধ রাজনীতির পতাকাবাহী এমএ মান্নান! বিদায়টাও উৎসবের আবহে। জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে ঈদুল ফিতরের জামায়েতে অসুস্থ হয়ে অন্য ভুবনের যাত্রী হয়েছেন। ২০০৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বরে চলে যান তিনি। রাজনীতিতে ত্যাগ, আদর্শ, জ্ঞান, শুদ্ধতা মান্নান ভাই কর্ম ও চর্চায় তুলে ধরেছেন আমৃত্যু। চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ রাজনীতির আদর্শিক শূন্যতা তাঁর প্রয়াণের পর পূরণ হয়নি। বঙ্গবন্ধুর নীতি-আদর্শিক অবস্থান মোড় বদলে কর্পোরেট ঘরানায়! দিনে দিনে সংক্রমণ বাড়ছে। গণ কল্যাণের সবচেয়ে বড় প্লাটফরম রাজনীতি। মানব দরদী ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী বিচরণ করতেন অতীতে। দেশ ও মানব সেবার মিশনে কঠিন পথ পাড়ি দিয়েছেন তাঁরা। উদাহরণ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।এখন কর্পোরেট স্বার্থের আকর্ষণ ও নিজ স্বার্থ সুরক্ষাঢাল, রাজনীতি। তাই মানুষ রাজনীতির প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। বিপরীতে ঘোলা স্রোতের তোড়ে নব্য কর্পোরেট গোষ্ঠী, ঋণখেলাপি ও স্বাধীনতার চিহ্নিত দুশমনেরা উজানের কৈএর মত সরকারি দলে আশ্রয় নিচ্ছে। এটা দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। রাজনীতি আদর্শিক গতিপথ হারালে গণ মানুষ নয়, গোষ্ঠীস্বার্থের রক্ষাকবজের ভূমিকা পালনে বাধ্য। দুঃখজনক হলেও সত্য, খান্দানী বা বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির সাথে জড়িত অনেকেও আত্মকল্যাণে অতি মাত্রায় মনোযোগী হয়ে পড়েছেন। ফলে নীতি-আদর্শের ক্ষয় রাজনীতিকে নষ্ট বাণিজ্যিক ঘরানায় অবনমন ঘটাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর অসাধারন দুটো রাজনৈতিক গ্রন্থ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ এবং ‘কারাগারের রোজনামচা’ বেস্টসেলার হলেও বহুল পঠিত নয়! অবিশ্বাস্য, কিন্তু সত্য, দলের অন্তত ৯০% নেতা কর্মী বইগুলো ড্রয়িং রুমের শো’পিস বানিয়েছেন! চাইলে দল সত্যতা যাছাইয়ে জরিপ চালাতে পারে। বঙ্গবন্ধুর কর্ম ও জীবনকে যারা ধারণ করেনা, আওয়ামী লীগ বা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ তাদের পক্ষে সম্ভব না। নবাগতদের হাইব্রিড বা অনুপ্রবেশকারী বলার যোগ্যতাও তাদের নেই। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা পরগাছা ছাঁটাইয়ে দেরিতে হলেও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। মূল দলের দ্রুত ভাগ্যশিকারি প্রভু বাবাদেরও লাল সঙ্কেত দিচ্ছেন। আসলে বিপুল রাক্ষস-খোক্কসের ওজন টানতে দল ও সরকারের মেরুদণ্ড বেঁকে যাচ্ছে! আমলাতন্ত্রেও এর প্রবল সংক্রমণ ঘটেছে। এটা সত্য, রাজনীতির দূষণ চিকিৎসার মত নিবেদিত নেতা এখন বিরলপ্রজ। মান্নান ভাই বেঁচে থাকলে অন্তত ঘোলাস্রোতে বাঁধ দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন। তিনি রাজনীতিতে শুদ্ধাচার ও আদর্শিক একটা মডেল উপহার দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর একান্ত স্নেহভাজন ও কাছের মানুষটি বঙ্গবন্ধুর মতোই নিবেদিত ছিলেন আমৃত্যু। তিনি সম্পদ, প্রচার, প্রভাব কিছুর ধার ধারতেন না। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের শোষণ ও বষ্ণনামুক্ত দুখী মানুষের সোনার বাংলা নির্মাণই ছিল তাঁর ব্রত। এই ব্রত থেকে কখনো পিছু হঠেন নি। চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের দৃঢ় ভিত্তি নির্মাণে তিনি এম এ আজিজ, জহুর আহমেদ চৌধুরী, এম এ হান্নানদের সাথে একযোগে কাজ করেছেন। বিনয়ী, মৃদুবাক, জ্ঞান, মনীষায় ঋদ্ধ এম এ মান্নান শুরুতে জেলা আওয়ামী লীগ পরে সাংগঠনিক জেলা ভাগ হওয়ার পর নগর শাখার আহবায়ক, সাধারণ সম্পাদক, সভাপতিসহ কেন্দ্রীয় সদস্য ও উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন বিভিন্ন সময়ে। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানসহ পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড প্রধানের ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বও সফলতার সাথে পালন করেন। সাংগঠনিক দক্ষতার গুণে প্রচণ্ড বিপদে দলকে আগলে রাখেন। সুদিনে এমপি, মন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছিলেন কর্মী অন্তপ্রাণ ও সততার মূর্ত প্রতীক। মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালীন ঘিরে থাকা সুবিধা শিকারী ও নিকট আত্মীয় কিছুটা বিতর্কের মুখে ঠেলে দিলেও বাস্তবে সাধারন জীবনে অভ্যস্ত ছিলেন তিনি। সুযোগ থাকলেও আত্মত্যাগ ছাড়া বিত্ত অর্জনে মনোযোগ দেননি। উল্টো নগরকেন্দ্রে নিজের পারিবারিক সম্পত্তি বেচে সংসার ও রাজনীতির দায় মিটিয়েছেন। ক্ষমতাভোগী হলে অনেক আগেই শত শত কোটি টাকার মালিক হতেন। সমালোচনার তির ছোঁড়ার সাহসও কারো হতো না। কারণ ভোগীদের সমালোচনার তীর ছোঁয় না! ত্যাগী রাজনীতিক ও নিবেদিত পেশাজীবীদের জন্য এটা এক চরম ট্রাজেডিও! সার্বিক বিবেচনায় চলমান রাজনীতির প্রেক্ষাপটে মান্নান ভাই শতভাগ খাঁটি হীরে। পরীক্ষিত হীরকখণ্ডকে রঙিন কাচের সমালোচনার আঁচড় আরো পরিশুদ্ধ করছে। আফসোস, বড় দুঃসময়ে মান্নান ভাইদের মতো শুদ্ধ ধারার রাজনীতিকরা ঝরে গেছেন! মান্নান ভাই, মহিউদ্দিন ভাইদের অভাব, চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা তীব্রভাবে অনুভব করছেন। এদের দু’ জনের রাজনৈতিক সমঝোতাও ছিল একদম বিপরীত ধারার। একজন আগুন, অন্যজন পানি। কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণে ঠিকই একই সমান্তরালে! মান্নান ভাইয়ের রাজনৈতিক দর্শন অনেকটা বুদ্ধিবৃত্তিক ও ধীরস্থির। মহিউদ্দিন ভাইয়ের নীতি, তাৎক্ষণিক অবস্থা বুঝে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ! এই মডেলের যুগল নেতৃত্ব আওয়ামী ঘরানায় আর কখনো ফিরে আসে কিনা, জবাব ভবিষ্যতের গর্ভে। ১১তম প্রয়াণ দিবস স্মরণে প্রিয় নেতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। লেখক : সাংবাদিক, সাহিত্যিক, কলাম লেখক.tdi_3_fff.td-a-rec-img{text-align:left}.tdi_3_fff.td-a-rec-img img{margin:0 auto 0 0} (adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও