কুইক লিঙ্ক : মুজিব বর্ষ | করোনা ম্যাপ | করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব

ফারুক আহমেদের কবিতা

প্রথম আলো প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২০, ১৯:৪৮

শহর একটি মায়াফারুক আহমেদ সে চলে যাচ্ছেচলে যাচ্ছে ঢালু উপত্যকার পথ বেয়ে একামেশিনে সকালকে সে সন্ধ্যার সঙ্গে সেলাই করত,সে দিনভর অনেক রং মাথা গুঁজে সেলাই করত;সাইকেলের পেছনে একটি গানকে বসিয়ে পৌঁছেদিত তোমাদের দরজায়।সে কাপের পর কাপ আনন্দ বানিয়ে হাতে তুলে দিত;আর চোখজোড়া ভরে থাকত এক দূর গ্রামের ছায়ায়।উপত্যকার ভাঁজে যে পথ, সে পথ ধরে সে চলে যাচ্ছে। এ শহরে মাইলের পর মাইল বৃষ্টি হেঁটে সে যাবেতার প্রেমিকার কাছে, কথার পুডিং নিয়েএকটা মুহূর্ত ভাগাভাগি করে খাবে বলে;অথচ তাকে চলে যেতে হচ্ছে উপত্যকা ধরে।

সে জ্যোৎস্না কেটে কেটে বানাত সরোবরপ্রেমিকযুগল যেত যেখানে প্রগলভতায় ভেসে।সে রিকশা ভরে পৌঁছে দিত লাল-নীল শব্দের তোড়াতোমরা তা পেয়ে সাজাতে প্রেমিকাকে।সে শেখাত কীভাবে অরণ্যকে বিলি কেটেঢুকে পড়তে হয় গহিনে, স্যাঁতসেঁতে পাতারনিচে কীভাবে একটি প্রজাপতির বর্ণিলতাদেয় বেঁচে থাকার রসদ।শহরের ক্রোধ চেপে ধরে তার হাতে ঘা হয়েছেতোমাদের আরাম সেলাই করতে করতে তারহাত দুটা মরা নদীর মতো পক্ষাঘাতগ্রস্ত।তোমাদের যৌনতার দংশনে সে তার সংসারকেবেহুলার ভেলার মতো ভাসিয়ে দিয়েছে জলে;তার হাতে ঘা, তার চোখে গুমোট চাহনিসে একটি হাবসি ক্রীতদাসের মতো দূরে দাঁড়িয়েঅপেক্ষা করে করে ক্ষুধা, বিষাদ পকেটে নিয়েআস্তে আস্তে উপত্যকার পথে রওনা হয়ে গেল।

যেতে যেতে পথে ফুলের সঙ্গে পাখির সঙ্গেবাতাসের সঙ্গে বলে গেল, তার সেলাইয়ের গল্প।সে পৌঁছে দিত বাবার হাতে সন্তানের যে আহ্লাদ;ঘষে ঘষে সকাল পরিষ্কার করে দেওয়ার যে স্মৃতি;তাও বলে বলে গুমোট একজোড়া চোখ নিয়েচলে যাচ্ছে, বিষাদ মুখ, অভিযোগ নেই তবু।কিন্তু দেখো বাতাস জেনে গেলফুল জেনে গেল, পাখি জেনে গেল।এই শহর একটি ভোগের থালা নিয়ে বসে আছে;তারপর আর কিছু নাই, মায়া, প্রেম কিছু নাই।এই শহর যত বড়, তার দেহখানিও তত বড়;শুধু হৃদয় শুকিয়ে হারিয়ে যাওয়া শহরের খাল।সে চলে যাচ্ছে উপত্যকার পথ বেয়ে একা;থাকছে শহরের পিঠজুড়ে বসে থাকা দালানশহরের পিঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়া পথের নদী;ক্যাফে, ফুটপাত, থাকছে লোভের ঢেউ;সে চলে যাচ্ছে ঢালু উপত্যকার পথ বেয়ে একা।আমরা ক্রিট, ব্যাবিলন, পেত্রা এমন নগরের কথা জানিহয়তো পিঠভরা দালান নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এ শহর লোভের থালায় স্থলতার ভাগাড় নিয়ে বসে থাকবে।

দুইসমুদ্রকে ডেকে আনোহাতে গোলাপ ধরিয়ে বলো পাশে বসতে;নিসর্গকে ডেকে আনো;বিসমিল্লাহ খাঁর সানাই ধরিয়ে বলো পাশে বসতে।বকুল ফুলকে ডেকে আনোহাতে ধরিয়ে দাও মাহমুদের ‘সোনালি কাবিন’।মাধবীলতাকে ডেকে এনে বলো‘ছিন্নপত্র’ গাইতে, যেন নদী, যেন গ্রাম, যেন মায়া।তারপর শহরকে ডাকো, বল মুখোমুখি বসতে;সে বসে আবৃত্তি করুক জীবনানন্দের ‘রূপসী বাংলা’,তার বুকে বুলেটের মতো বিঁধে যাক শব্দ, উপমা;সে একটি গলিত মোমের মতো একাকার হয়েকান্নায় ভেঙে পড়ুক, কান্নার মাতমে অভাবনীয়এক করুণ দৃশ্যের অবতারণা হোক, যাতে অংশ নেবেফুল পাখি মানুষ—সর্বোপরি পৃথিবীর সন্তানেরা।বাষ্পরুদ্ধ দুচোখে কেঁদে কেঁদে চলে যাওয়াপৃথিবীর সন্তানদের মুখ মনে করে শহর একআশ্চর্য অনুশোচনায় সেজদা দিয়ে পড়ে থাকুক।

তারপর উঠে লাইনে দাঁড়াকহারিয়ে যাওয়া অবয়বকে ফিরিয়ে আনতে। যে মুখ হারিয়ে ফেলেছে শহর;যে শহর অবয়বহীন একটি শরীর নিয়েদিন কাটাচ্ছে ভাগাড়, বিষ্ঠা, লোভ আর স্বার্থপরতায়,তার তলপেটে নিসর্গের উপমা ঢুকিয়ে দাও,তার স্কুলে স্কুলে পাঠাও কোমলমতী নদীগুলোকে,তাকে বলো রবীন্দ্রনাথে সমর্পিত হতে...তাকে বলো সুলতানে মাথা নত করে পড়ে থাকতে।এভাবে তাকে নিসর্গে, কবিতায়, চিত্রকলায়খুন করো, সে খুন হোক, ভেঙে পড়ুক, তছনছ হোকতারপর একটু একটু করে দাঁড়াক, একটু একটু করেবুঝুক, কেন কবিকে স্যালুট করবে, কেন শিল্পীর হাতেচুমু দিয়ে সকাল শুরু করতে হবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও