মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলনে সাকিব আল হাসান। ছবি: প্রিয়.কম

সাকিবের ফেরার পথটা এখনো বেশ দূর!

রবিবার অস্ট্রেলিয়া থেকে আঙুলের চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরেন সাকিব। সকালে হাজির হন মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

সামিউল ইসলাম শোভন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০১৮, ১৯:১৬ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৫:০০
প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০১৮, ১৯:১৬ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৫:০০


মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলনে সাকিব আল হাসান। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব শেষ উইকেটে ব্যাট করছিল। এমন সময় তাদের ড্রেসিংরুমে হাজির সাকিব আল হাসান। ইনিংস শেষে বাউন্ডারির আঙিনায় ব্যাটে ‘নক’ শুরু করলেন। হাস্যোজ্জ্বল মুখটা যেন ভালো খবরের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। সত্যিকার অর্থেই ভালো খবর এনেছেন বাঁহাতি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। আঙুলের ইনজুরি প্রায় শতভাগ সেরে ওঠার পথে। তবে মাঠে ফেরার পথটা এখনো বেশ দূরে।  

রবিবার অস্ট্রেলিয়া থেকে আঙুলের চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরেন সাকিব। সোমবার সকালে হাজির হন মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। মাঠে তখন প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে লড়ছে খেলাঘর সমাজকল্যাণ সমিতি ও শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব। এদিন বোলিং মেশিনের সামনে প্রথমে ব্যাট করেন তিনি। পরে ইনডোরেও ব্যাটিং অনুশীলন করেছেন। সাকিবের ইনজুরির ব্যাপারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দেবাশীষ চৌধুরী জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ম্যাচে সাকিব কবে ফিরবেন তা নির্ভর করছে সাকিবের ওপরই। তবে সেটা এখনই নয়। আর আগামী ৭-১০ দিনের মধ্যে ‘স্পোর্টিং অ্যাক্টিভিটিজ’; অর্থাৎ খেলাধুলা শুরু করতে পারবেন সাকিব।

ড্রেসিং রুমের সামনে ‘নক’ করছেন সাকিব। ছবি: প্রিয়.কম

নিদাহাস ট্রফির আগে থেকে বোলিং ও ফিল্ডিং অনুশীলন করতে পারছিলেন সাকিব। সমস্যা হচ্ছিল ব্যাট গ্রিপ করতে। ব্যথা পাচ্ছিলেন সাকিব। সেই সমস্যা মেটাতেই কলম্বো থেকে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন। সেখানে শরণাপন্ন হন অজি শল্যচিকিৎসক ডেভিড হয়ের।

দেবাশীষ চৌধুরী এ প্রসঙ্গে সোমবার বলেন, ‘৯ তারিখ (মার্চ) মেলবোর্নের হ্যান্ড বিশেষজ্ঞ ডা. ডেভিড হয়ের সঙ্গে সাকিবের অ্যাপয়েনমেন্ট ছিল। ওখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর উনি সিদ্ধান্ত নেন আহত জায়গায় এই মুহূর্তে বড় কোনো হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। উনি প্রদাহবিরোধী (ব্যথানাশক) একটি ইনজেকশন পুশ করেন। উনি আশা করছেন এই ওষুধটা দুয়েক দিনের মধ্যে কার্যকর হবে। যদি ওষুধটা কার্যকর হয়, ৭-১০ দিনের মধ্যে সে পুরোপুরি স্পোর্টিং অ্যাকটিভিটিতে ফিরতে পারবে। ব্যথা অনেকটাই ভালো অবস্থায় আছে। সব মিলিয়ে অনেক ইতিবাচক। এভাবে যদি চালিয়ে যেতে পারি তাহলে ওই সময়ের মধ্যেই খেলাধুলার কাজ করতে পারবে।’

অবশ্য স্পোর্টস অ্যাকটিভিটির সঙ্গে ম্যাচ ফিটনেসের পার্থক্য আছে বলে উল্লেখ করেছেন বিসিবির এই চিকিৎসক। সে ক্ষেত্রে সাকিবের ফিরতে আরও বেশি সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন। দেবাশীষের মতে, ম্যাচ ফিটনেসের জন্য আরেকটু সময় নিতে হবে। এটার সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক ব্যাপার জড়িত বলে ভাবনা তার।

তিনি বলেন, ‘স্পোর্টস অ্যাকটিভিটিতে ফেরা আর ম্যাচ ফিটনেসের মধ্যে পার্থক্য আছে। ম্যাচ ফিটনেসের জন্য আরেকটু সময় নিতে হবে। কেননা মনস্তাত্ত্বিক একটা ব্যাপার কিন্তু থেকেই যায়। সেটা অবশ্যই সাকিব সিদ্ধান্ত নিবে। তবে আমরা চেষ্টা করছি আপাতত স্পোর্টিং ফিটনেস ফিরিয়ে আনতে।’

ফিরেই হাতে ব্যাট তুলে নিয়েছেন সাকিব। ছবি: প্রিয়.কম

সে ক্ষেত্রে সব মিলিয়ে কতদিন পর আন্তর্জাতিক ম্যাচে দেখা যেতে পারে সাকিবকে? দেবাশীষ সেই উত্তর নির্বাচক-সাকিবদের কাছে খোঁজার পক্ষে, ‘এটা নির্ভর করছে নির্বাচকদের ওপর, সাকিবের ওপর। যেহেতু একটা পুনর্বাসনের ব্যাপার আছে, সেটা যেন ঠিকভাবে হয়, আমরা মেডিকেলের দিক থেকে সেটাই কেবল চেষ্টা করছি। আর সাকিবের ম্যাচে ফেরাটা সাকিব ও নির্বাচকরা মিলে সিদ্ধান্ত নেবে। তাকে সরাসরি ম্যাচ খেলানো হবে নাকি প্র্যাকটিস ম্যাচ থেকে দলে নেওয়া হবে সেটা তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।’

বিসিবির এই চিকিৎসক এটুকু নিশ্চিত করেছেন যে, সাকিব এই মুহূর্তে ব্যাটিংয়ে আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে। ব্যথাটাও অনেক কমে গেছে।

চলতি বছর এই মিরপুরেই ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফিল্ডিং করতে গিয়ে বাঁ হাতের আঙুলে চোট পান সাকিব। ওই ম্যাচে আর মাঠে নামা হয়নি তার। আঙুলে সেলাই পড়েছিল তখনই। তারপর থেকেই ফেরার অপেক্ষায় তিনি।

প্রিয় স্পোর্টস/আজাদ চৌধুরী

 

 

 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...