সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ছবি: প্রিয়.কম

এভাবে ‘অধিনায়কত্ব চাননি’ মাহমুদউল্লাহ

২০১১ সালের ব্যর্থতার পর টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব হারান সাকিব আল হাসান। তামিম ইকবাল হারান সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব। নতুন অধিনায়ক হন মুশফিকুর রহিম। সহ-অধিনায়ক হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। প্রায় সাড়ে ছয় বছর আগে সেটিই ছিল প্রথম সহ-অধিনায়ক হওয়া।

সামিউল ইসলাম শোভন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:০৮ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০৫:০০
প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:০৮ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০৫:০০


সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম, চট্টগ্রাম থেকে) বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্ন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বহু দিনের। রাত পেরোলেই সেই স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। কিন্তু এভাবে অধিনায়কত্ব চাননি ৩১ বয়সী এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের আগে চট্টগ্রামে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান মাহমুদউল্লাহ।

এই সিরিজ দিয়ে ক্রিকেটের যে কোন ফরম্যাটে প্রথমবারের মতো অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথমটি শুরু হচ্ছে বুধবার থেকে। দলের নতুন টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের কাধেই ছিল অধিনায়কের দায়িত্ব। কিন্তু ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফিল্ডিং করতে গিয়ে আঙ্গুলে চোট পান। তাতেই সিরিজ থেকে ছিটকে যান সাকিব। তাই দায়িত্ব এসে পড়েছে সাকিবের ডেপুটি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কাঁধে।

মঙ্গলবার প্রথমবার অধিনায়ক হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হলেন মাহমুদউল্লাহ। সেখানে নিজের নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যেভাবে অধিনায়কত্ব পেয়েছি, সেভাবে অবশ্যই পেতে চাইনি। কারণ সাকিব আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। ওকে লস করা আমাদের দলের জন্য বড় একটা বিপর্যয়ই বলতে হবে। ওর মতো টপ ক্লাস ক্রিকেটারকে ছাড়া মাঠে নামা দলের জন্য অবশ্যই ক্ষতিকর একটা জিনিস। তার পরও দিন শেষে আমরা সবাই বাংলাদেশ দলকে প্রতিনিধিত্ব করছি। বাংলাদেশ দলকে প্রতিনিধিত্ব করাও একটা সুযোগ। সেদিক থেকে আমরা সবাই বেশ এক্সাইটেড।’

২০১১ সালের ব্যর্থতার পর টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব হারান সাকিব আল হাসান। তামিম ইকবাল হারান সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব। নতুন অধিনায়ক হন মুশফিকুর রহিম। সহ-অধিনায়ক হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। প্রায় সাড়ে ছয় বছর আগে সেটাই ছিল মাহমুদউল্লাহর প্রথম সহ-অধিনায়ক হওয়া। এর পর তার ক্যারিয়ারের জল গড়িয়েছে অনেক দূর। বছর দুয়েক আগে নিজের বাজে ফর্মের কারণে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। এর পর মুশফিককে টেস্ট অধিনায়কত্ব থেকে সরানো হলে ফের নেতৃত্ব আসে সাকিবের কাঁধে। আবারও সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পান মাহমুদউল্লাহ। তবে সাকিবের ইনজুরির কারণে মূল অধিনায়ক হিসেবেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামতে হচ্ছে তাকে।

যেভাবেই হোক, দলের নেতৃত্ব এখন মাহমুদউল্লাহর কাধে। সেদিক থেকেই ভাবছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক ক্রিকেটারেরই স্বপ্ন থাকে তার দলকে লিড করা, দেশকে লিড করা। সেদিক থেকে চিন্তা করলে অবশ্যই।’

‘আমি বিশ্বাস করি, যদি সবাই দলগতভাবে ভালো পারফরম্যান্স করে তাহলে অধিনায়কত্ব করা খুব সহজ হয়ে যায়। আমাদের সবার লক্ষ্য থাকবে যে, আমরা যেন দল হিসেবে ভালো পারফর্ম করি। আর সবাই কম-বেশি অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। জুনিয়র ক্রিকেটাররাও সবাই বেশ কো-অপারেটিভ। সেদিক থেকে আমি বলব আমার জন্য ভালো হবে।’

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে মাহমুদউল্লাহ ৩৫টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। ব্যাট হাতে মোট ১ হাজার ৯৩১ রান করেছেন তিনি। রয়েছে একটি সেঞ্চুরি ও ১৪টি হাফ সেঞ্চুরি। বল হাতে নিয়েছেন ৩৯ উইকেট।  

প্রিয় স্পোর্টস/আই 

 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...