একজন কাপালিক সাধক। ছবি: লেখক

যে সাধকরা মানুষের খুলিতে পানাহার করেন

কাপালিক সম্প্রদায়ের লোকরা শৈব ধর্মের অনুসারী। তারা মৃত মানুষের মাথার খুলি বাটির মতো ব্যবহার করে কপালের ভেতরের অংশটিতে পানাহার করেন।

ডা. মো. সাইফুল ইসলাম ‍সোহেল
লেখক
প্রকাশিত: ০৪ এপ্রিল ২০১৮, ১৫:৫৮ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০৪:১৬
প্রকাশিত: ০৪ এপ্রিল ২০১৮, ১৫:৫৮ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০৪:১৬


একজন কাপালিক সাধক। ছবি: লেখক

(প্রিয়.কম) কাউকে মানুষের মাথার খুলিতে পানাহার করতে দেখলে কি মেনে নেবেন? ভাবুন তো, এটি কতটা কঠিন কাজ মনে হচ্ছে! কিন্তু এখনো টিকে থাকা কাপালিক সম্প্রদায়ের লোকজন অবিশ্বাস্য এই কাজটিই করে থাকেন। তারা মৃত মানুষের খুলিতে খাবার খান ও পানি পান করেন।

কাপালিক সম্প্রদায়ের লোকেরা শৈব ধর্মের অনুসারী। তারা মৃত মানুষের মাথার খুলি বাটির মতো ব্যবহার করে কপালের ভেতরের অংশটিতে পানাহার করেন। তারা নিজেদের সাথে মানুষের মাথার খুলি রাখেন। এ জন্যই বলা হয় কাপালিক। অনেকের মতে, ভাগ্য বা কপালের ওপর প্রবল বিশ্বাসী হওয়ায় তাদের কাপালিক বলে।

প্রাচীনকালে কাপালিক সাধনাকে বিলাসিতা ও বিত্ত-বৈভব হিসেবে দেখতেন অনেক সাধক। তাই ভোগ-বিলাস ও কামশক্তি চরিতার্থ করার জন্য অনেকেই এই সাধনার সাথে যুক্ত হতেন। এ জন্য মূল সাধনার পথ অনেক বিকৃত হতে থাকে। ফলে ভোগ-বিলাস ও কাম সাধনার মতো পথের উৎপত্তি হয়েছিল।


খুলিতে জল পান করছেন একজন তান্ত্রিক। ছবি: সংগৃহীত

এই পথকে খাঁটি সাধকরা ঘৃণার চোখে দেখতেন। তাই তারা ব্যক্তিগতভাবে সাধনার কাজ চালিয়ে যান। ফলে উভয় পন্থীদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

বিরোধের জের ধরে কাপালিক সম্পদায়ের অনেক লোক নেপালের সীমান্তববর্তী এলাকা তিব্বতে গিয়ে বসবাস করতে থাকেন। সেখানে কাপালিকরা বৌদ্ধ ধর্মেও প্রভাবিত হন।

এ সম্প্রদায় ভারতের কিছু কিছু স্থানেও রয়েছে। বাংলাদেশের মানিকগঞ্জ ও মাদারীপুর জেলাসহ বিভিন্ন স্থানেও এই সম্প্রদায়ের লোক রয়েছে, যারা কাশ্মীর থেকে আগত বৌদ্ধ কাপালিক হিসেবে পরিচয় দেন। বাংলাদেশে তারা মূলত কৃষিকাজ ও ব্যবসা করেন। অনেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

ভৈরবতন্ত্র, শিবপুরাণসহ বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে জানা যায়, কাপালিক সম্প্রদায়ের লোকজন তান্ত্রিক ও তন্ত্র সাধনাবলে নিজেদের পরিত্রাণের পথ খোঁজেন। এদের সাধনাকে কাপালিক চক্র বলা হয়। এই সাধনার জন্য একজন সাধক ও একজন সাধিকা থাকেন। সাধককে বলা হয় ‘ভৈরব’ ও সাধিকাকে বলে ‘ত্রিপুরা সুন্দরী’। এ ক্ষেত্রে সাধিকাকে ভৈরবের পত্নী হিসেবে স্বীকার করতে হয়। অতঃপর তিনি কামশক্তির নানাবিধ সাধন করে নিজের সাধনা পূর্ণ করেন।

কাপালিক সম্প্রদায়ের সাধুরা তাদের সাধনা ও সিদ্ধি লাভের জন্য মহাকালী, ভৈরব, চণ্ডালী, চামুন্ডা, শিব তথা ত্রিপুরা প্রভৃতি দেব-দেবীর পূজা করেন। অপরদিকে বৌদ্ধ কাপালিক বজ্রভৈরব, মহাকাল ও হেবিজ্রা নামক তিব্বতী দেব-দেবীর পূজা করেন।

অনেকে এই সম্প্রদায়ের সাথে কালো জাদু, অনিষ্টকর ক্রিয়ার সম্পর্ক জুড়ে দেন। কিন্তু বাস্তবে তারা এমন নন। কামশক্তির সাধনা অনেক সমালোচিত হওয়ায় বর্তমানে প্রকাশ্যে এই সাধনা করা হয় না বললেই চলে। কিন্তু এখনো তান্ত্রিক মঠে গোপনে এই সাধনা প্রচলিত আছে।

প্রিয় লাইফ/আফসানা সুমী/আজহার

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...