ছবি সংগৃহীত

আমি নজরুল সঙ্গীত নিয়ে বেশ আশাবাদী: খায়রুল আনাম শাকিল

খায়রুল আনাম শাকিল। দীর্ঘদিন ধরে নজরুল সঙ্গীত শিল্পী সমাজে তিনি অন্যতম জনপ্রিয় এক মুখ। বর্তমান প্রজন্মের কাছেন জরুল গীতি যেন আরো বেশি গৃহীত হয়, সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছেন।

বুশরা আমিন তুবা
ফিচার লেখক, প্রিয়.কম
প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১১:৫১ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৪৮
প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১১:৫১ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৪৮


ছবি সংগৃহীত

খায়রুল আনাম শাকিল  ছবি: সংগৃহীত 

(প্রিয়.কম) খায়রুল আনাম শাকিল। দীর্ঘদিন ধরে নজরুল সঙ্গীত শিল্পী সমাজে তিনি অন্যতম জনপ্রিয় এক মুখ। বর্তমান প্রজন্মের কাছে নজরুল গীতি যেন আরো বেশি গৃহীত হয়, সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ছায়ানটের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি ছোট্ট একটি আলাপচারিতা হল প্রিয়.কমের সাথে।

প্রিয়.কম: প্রথমেই আপনার বেড়ে ওঠা সম্পর্কে জানতে চাই। কিভাবে গানের জগতে আসলেন।

খায়রুল আনাম শাকিল: আমি বেশ দেরীতেই, দশ বছর বয়সে গান গাওয়া শুরু করি। বেশ সংস্কৃতিমনা ছিল আমাদের পরিবারটি। তখনকার পূর্ব পাকিস্তানের নতুন কুড়ি প্রতিযোগিতায় আমি অংশ নিই এবং প্রথম স্থান লাভ করি। পরবর্তীতে গানের মূল জ্ঞাণ আমি ছায়ানট থেকে নেয়া শুরু করি। এভাবেই মূলত গানের জগতে ঢুকে যাওয়া।

প্রিয়.কম: তখনকার দিনে আপনার গুরু কে কে ছিলেন।

খায়রুল আনাম শাকিল: যাঁদের কথা না বললেই নয়, তাঁরা হলেন, সনজিদা খাতুন, ওয়াহিদুল হক, শেখ লুতফর রহমান, সোহরাব হোসেন ও নারায়ন চন্দ্র বসাক।

প্রিয়.কম: আপনার দীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে অনেক গান গেয়েছেন। কোন গানটি এখনো নাড়া দেয় আপনাকে?

খায়রুল আনাম শাকিল: অবশ্যই ‘পদ্মার ঢেউরে’ গানটি। এটি গাইলে এখনো চোখ বন্ধ করে আমি শৈশবে ফিরে যাই। বেশ কিছুদিন আগে এটির মিউজিক ভিডিও বের করা হয়েছে। এর মাধ্যমেই আমি আরো বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছি নজরুল সঙ্গীত প্রেমীদের কাছে।

প্রিয়.কম: ছোটবেলা থেকেই কি আপনার একজন গায়ক হবার ইচ্ছা ছিল?

খায়রুল আনাম শাকিল: আমি ঢাকায় থেকেই উচ্চমাধ্যমিক এর পাট চুকিয়ে ফেলি। অতঃপর ১৯৭৫ সালের দিকে আমি লন্ডন যাই। সেখানে লীডস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়াশোনা শেষ করি। এর পর আমি পর্যায়ক্রমে সঙ্গীত জগতে ঢুকে পড়ি। হ্যাঁ, তখন আমার গায়ক হবারই নেশা চেপে ধরেছিল। 

প্রিয়.কম: পরিবার থেকে কেমন সহায়তা পেয়েছেন এ ব্যাপারে?

খায়রুল আনাম শাকিল: আমার পরিবার ছিল খুবই সঙ্গীত-প্রেমী। বিশেষভাবে আমার নানাবাড়ির লোকেদের গানের প্রতি ছিল এক অসাধারণ টান। আমার মা বুলবুল ললিতকলা একাডেমীর ছাত্রী ছিলেন, পরবর্তীতে তিনি ছায়ানটে চলে যান। ছোটবেলা থেকেই আমি বেশ কিছু গানের প্রতিযোগিতায় অংশ নিই, সেগুলোতে ভাল ফল করাও গানের প্রতি আমার ঝোঁক বাড়িয়ে দেয়।

প্রিয়.কম: আপনাকে আজকের ‘খায়রুল আনাম শাকিল’ তৈরীতে কার অন্যতম ভূমিকা রয়েছে।

খায়রুল আনাম শাকিল: একজনের কথা না বললেই নয়। তিনি আমার শ্রদ্ধেয় মামা, মাহমুদুর রহমান বেনু। তিনিও ছায়ানটের ছাত্র ছিলেন। উনিই আমাকে সেখানে ভর্তি করেন। মামা প্রায়ই বাসায় গানের আসর বসাতেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর আমি লন্ডন চলে যাই। ভাগ্যক্রমে ওখানে মামা ছিলেন বলে গানের চর্চা আমার কখনো ব্যাহত হয়নি।

প্রিয়.কম: মামা ছাড়াও উল্লেখযোগ্য কোন গুরু আছেন যার কথা আজো স্মরণ করেন?

খায়রুল আনাম শাকিল: আমি পাবনার নারায়ন চন্দ্র বসাক এর কাছে ক্ল্যাসিকাল সঙ্গীত এর তালিম নিয়েছি। পরবর্তীতে আমি ভারতের খুব নামকরা গুরু ওস্তাদ সগীর উদ্দীন খানের কাছে তালিম নিই।

প্রিয়.কম: আপনার জনপ্রিয় কিছু অ্যালবাম এর নাম বলুন।

খায়রুল আনাম শাকিল: জনপ্রিয় অ্যালবামের মধ্যে আছে বেণুকা, গভীর নিশীথে ঘুম, সোনার কাঠি রুপোর কাঠি, ছিল চাঁদ মেঘের পারে, ইত্যাদি।  

প্রিয়.কম: আমরা মোটামুটি জানি, নজরুল সঙ্গীত বিশেষভাবে খুব কঠিন। এর প্রতি আপনার এত সাধনা ও ভালোবাসা কিভাবে জন্মাল?

খায়রুল আনাম শাকিল: (একটু হেসে) দারুণ লেগেছে প্রশ্নটি। আমি যেহেতু ক্ল্যাসিকাল সঙ্গীত এর ছাত্র ছিলাম, আমাদের তখন নজরুল সঙ্গীত এর ওপর বেশ অনুশীলন করতে হত। কারণ, এই গুলো অনেকটা ক্ল্যাসিকাল ঘরানার। আমি কাজী নজরুল ইসলাম এর কাব্যগীতি, খেয়াল ও গজলের উপর বেশ আকৃষ্ট ছিলাম। পরবর্তীতে আমি শেখ লুতফর রহমান, সোহরাব হোসেন ও অঞ্জলী রায় এর কাছে বেশ জ্ঞানগরিষ্ঠ তালিম নিই।

প্রিয়.কম: নজরুল গীতি এখন কতটা শুদ্ধভাবে শেখানো হচ্ছে ও গাওয়া হচ্ছে, আপনার মতামত কি?

খায়রুল আনাম শাকিল: আমি মনে করি এই প্রজন্মের অবস্থা আগের থেকে বেশ ভাল। অনেক শক্তভাবে এটা খেয়াল রাখা হচ্ছে যেন গানের কোন দিক পরবর্তন কিংবা পরিবর্ধন না করা হয়। তাছাড়া এখন নজরুল ইন্সটিটিউট, নজরুল একাডেমি, ছায়ানট, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে এসব গানের ওপর। দিনের পর দিন নজরুল সঙ্গীতশিল্পী বাড়ছে। আমি তো বেশ আশাবাদী।

প্রিয়.কম: নজরুল সঙ্গীত এর ব্যাপারে একটি ভুল ধারণা আছে যে এটি নাকি দুই মাত্রায় গাওয়া হয়, কতটুকু সত্যি এটি?

খায়রুল আনাম শাকিল: সত্যি কথা বলতে কি, কাজী নজরুল ইসলাম নিজেই বিভিন্ন সুর নিয়ে পরীক্ষা করতেন যে, কোন সুরটি ভাল মানাচ্ছে গানের সাথে। তিনি তার আশেপাশের গায়ক ও সুরকারদেরকেও তা করতে দিতেন। এখন মানুষ তাই বিভিন্ন সুর ও লয়ে ভাগ হয়ে গিয়েছে।

প্রিয়.কম: বর্তমানে নজরুল সঙ্গীতশিল্পীদের ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি?

খায়রুল আনাম শাকিল: আমি বিশ্বাস করি যে দিনের পর দিন নজরুল সঙ্গীতশিল্পী বেড়েই চলেছে। অবশ্যই এটি একটি ইতিবাচক দিক। এমনকি এসব গান নিয়ে মিউজিক ভিডিও বানানো হচ্ছে। এগুলোও খুব যুগান্তকারী। তাছাড়া এখন বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র আসার কারণে গানগুলো যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আমি মনে করি, নজরুল সঙ্গীত এর অবস্থা এখন বেশ সন্তোষজনক। এই দৃশ্য কয়েক বছর আগেও বেশ করুণ ছিল।

প্রিয়.কম: আমরা আশা পোষণ করছি যে নজরুল সঙ্গীত এর অবস্থা আরো উন্নত হবে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও পদচারণা করবে। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

খায়রুল আনাম শাকিল: আপনাকেও ধন্যবাদ। 

সম্পাদনা: গোরা 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...