ছবি সংগৃহীত

ই-টেন্ডারের অভাবে বাড়ছে সন্ত্রাস আর দুর্নীতি

<strong>(প্রিয় টেক)</strong> ২০০৪ সালের জুলাই মাসে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশে অনলাইনে টেন্ডারিং এর কাজ শুরু হয়েছিল। ২০০৯ সালের আগস্ট মাসে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলে ছিলেন, দুই মাসের মধ্যেই ই-টেন্ডারিং প্রক্রিয়া শুরু হবে। ২০১১ সালের ২ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট ওয়েব পোর্টাল উদ্বোধন করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে ই-টেন্ডারিং চালু হয়নি। সরকারের ই-টেন্ডার কার্যক্রম কাগজে আছে বাস্তবায়ন নেই।

এম. মিজানুর রহমান সোহেল
জেষ্ঠ্য প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০১৩, ০৯:২৭ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০১৮, ২৩:২৫
প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০১৩, ০৯:২৭ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০১৮, ২৩:২৫


ছবি সংগৃহীত
(প্রিয় টেক) ২০০৪ সালের জুলাই মাসে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশে অনলাইনে টেন্ডারিং এর কাজ শুরু হয়েছিল। ২০০৯ সালের আগস্ট মাসে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলে ছিলেন, দুই মাসের মধ্যেই ই-টেন্ডারিং প্রক্রিয়া শুরু হবে। ২০১১ সালের ২ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট ওয়েব পোর্টাল উদ্বোধন করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে ই-টেন্ডারিং চালু হয়নি। সরকারের ই-টেন্ডার কার্যক্রম কাগজে আছে বাস্তবায়ন নেই। ফলে টেন্ডার নিয়ে সারা দেশে যে অরাজকতা ছিল, তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। প্রতিনিয়ত টেন্ডার নিয়ে চলছে হাঙ্গামা, সন্ত্রাস আর দুর্নীতি। আবার বাংলাদেশ ই-টেন্ডারে অনেক ভালো করতে পারে তারও একটি প্রমাণ রয়েছে। গেল বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উন্নয়নকৃত ও সফলভাবে ব্যবহৃত ই-টেন্ডার পদ্ধতিটি আমেরিকার লরেন্স টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃক আয়োজিত তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত তৃতীয় আন্তর্জাতিক শিল্প প্রকৌশল ও পরিচালন ব্যবস্থাপনা সম্মেলনে (আইইওএম-২০১২) পুরস্কৃত হয়েছে। বহু সম্ভাবনাময় এই পদ্ধতি কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের জন্য কার্যকর হচ্ছে না। এছাড়া এ সম্পর্কে মিডিয়াও কোন কথা বলে না। ফলে সম্ভাবনা থাকা শর্তেও আমরা ই- টেন্ডারিং পদ্ধতিতে আসতে পারছি না। ই-টেন্ডারের অভাবে সন্ত্রাস ও দুর্নীতি বাড়ছে লক্ষ্য ছিল উন্নয়নের কাজে গতি, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা আনা। তাই হাতে হাতে দরপত্র (টেন্ডার) জমা দেয়ার সাবেক পদ্ধতির বদলে বর্তমান সরকার ই-টেন্ডার পদ্ধতি চালু করেছিল। দরপত্র ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পাশাপাশি এ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি বন্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালের ২ জুন ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট ওয়েব পোর্টাল উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন কালে তিনি বলেন, দরপত্র ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পাশাপাশি এ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি বন্ধ করতেই ই-টেন্ডার পদ্ধতি চালু করা হলো। প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে ই-টেন্ডার পদ্ধতি চালুর একবছর পরেও বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে বাড়ছে টেন্ডার নিয়ে সন্ত্রাস ও দুর্নীতি। যেভাবে চালু হয়েছিল ই-টেন্ডার বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় সরকারের বাস্তবায়নাধীন পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রিফর্ম প্রজেক্ট ২-এর আওতায় ই-টেন্ডারিং চালু হয়। প্রধান পরামর্শক জিএসএস ইনফোটেক, সহ-পরামর্শক এবিসি প্রকিউর এবং সরকার মনোনীত সহ-পরামর্শক দোহাটেক নিউ মিডিয়া এই ই-জিপি বাস্তবায়ন করার কাজ করে। ই-জিপি সিস্টেমের মাধ্যমে সরকারি তহবিলের অর্থে পণ্য, কার্য ও সেবা ক্রয়ের যাবতীয় প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করার কথা ছিল। ই-টেন্ডার হলো ই-জিপিরই অংশ। প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত চারটি সংস্থার ১৬টি কার্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ই-টেন্ডার চালু হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি যুক্ত থাকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আইএমই বিভাগে স্থাপিত সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ)-এর সঙ্গে। পরবর্তী পর্যায়ে সংস্থাগুলোর জেলা পর্যায়ের ৩০৮টি ক্রয় অফিসে ই-টেন্ডার সম্প্রসারিত করার থা ছিল। সিপিটিইউ কর্মকর্তারা এ পদ্ধতি চালু হওয়ার আগে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ই-জিপি সিস্টেমটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে সারা দেশের সব ক্রয়কারী অফিসেই তা চালু করা যাবে। ই-টেন্ডার সময় ও খরচ দুটোরই সাশ্রয় হয় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আইএমইডি (ইমপ্লিমেন্টেশন মনিটরিং ও ইভ্যালুয়েশন ডিভিশন) সূত্রে জানা যায়, ভারতের কয়েকটি রাজ্যে, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীনসহ অনেক দেশে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে সফলভাবে। এর ফলে দেশগুলোতে ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে সময় ও খরচ দুটোরই সাশ্রয় হচ্ছে। ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট পদ্ধতিতে সেসব দেশের কার্যক্রমে যেমন গতি এসেছে, তেমনি সেবার গুণগতমানও বেড়েছে। বাংলাদেশে সরকারি ক্রয় কার্যক্রম অনলাইন ভিত্তিক বলা হলেও বাস্তবে চলছে কাগুজে পদ্ধতিতে। মহাজোট সরকার মুখে ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বললেও সরকারি অনেক কার্যক্রম চলছে এনালগ তথা সাবেক ও কাগুজে পদ্ধতিতে। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী থেকে সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা ই-টেন্ডার নিয়ে অনেক কথাই বলেছেন। সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছিল এ পদ্ধতির মাধ্যমে দরপত্র নিয়ে আর কোন অপ্রীতিকর কিছু ঘটবে না। ই-টেন্ডারের ওয়েবসাইটে যা আছে সরকারের জাতীয় ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট ওয়েব পোর্টালের ঠিকানা এর মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে ই-টেন্ডার কার্যক্রম। প্রথম ধাপে চারটি ক্রয়কারী সংস্থার [বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি), সড়ক ও জনপথ বিভাগ (আরএইচডি) এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)] ১৬ (ষোল) টি ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানে এবং সিপিটিইউ'তে পরীক্ষামূলকভাবে ই-টেন্ডারিং বা ই-দরপত্রায়ন চালু হবে। পর্যায়ক্রমে এই সিস্টেম চারটি ক্রয়কারী সংস্থার জেলা শহর পর্যন্ত ২৯৫টি ক্রয়কারী (পিই)-সমূহে বিস্তৃত হবে। পরবর্তীতে এটি দেশের সকল সরকারী ক্রয় সংস্থার অধীনস্থ ক্রয়কারী (পিই)-সমূহে প্রবর্তিত হবে। ওয়েব পোর্টালে দেশব্যাপী ই-টেন্ডার কার্যক্রম বিস্তৃত করার বিষয়ে উল্লেখ থাকলেও গত দেড় বছরেও অর্জন বলতে কিছুই হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই-টেন্ডার উদ্বোধন করছেন।
ই-টেন্ডার নিয়মাবলী একজন দরদাতা যাবতীয় সকল তথ্য পাবেন এই সাইটে । তাকে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হলে প্রথমে নিবন্ধিত হতে হবে । আর এই জন্য যাবতীয় নিয়মাবলী তিনি পাবেন এই লিংকে। এখান থেকে আপনি জানতে পারবেন কিভাবে আপনাকে দরপত্রতে অংশ নিতে হবে। দরপত্র জমা, ফি সহ যাবতীয় তথ্যাবলি এখানেই আপনি পাবেন। ওয়েবসাইটের বামদিকে পাবেন New User Registration অংশ । এর মাধ্যমে আপনি আপনার Registration করতে পারবেন । ওয়েবসাইটের ডানদিকে উপরে পাবেন Language option । তা থেকে আপনি ইচ্ছে করলে বাংলায় ক্লিক করে ওয়েবসাইট বাংলায় পড়তে পারবেন । এছাড়া ই-জিপি সহায়তা ডেস্ক এর ই-মেইল [email protected] বা ফোন +৮৮০-২-৯১৪৪২৫২/৫৩ । তাছাড়া দরদাতার সুবিধার জন্য আছে স্বয়ংক্রিয় বার্তা সেবা । এ সেবা চালু করলে যাবতীয় নতুন তথ্য থাকলে মোবাইলে তা পেয়ে যাবেন । এছাড়া পাসওয়ার্ড হারিয়ে গেলে মেইল করুন [email protected] ঠিকানায় এবং ফিরতি বার্তায় সমাধান পাওয়া যাবে। ই-টেন্ডারে যা যা করা যায় ই-জিপি সিস্টেম একটি জাতীয় পোর্টাল যার মাধ্যমে ক্রয়কারী সংস্থা এবং ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানসমূহ নিরাপদ ওয়েব ড্যাশবোর্ড ব্যবহার করে যাবতীয় ক্রয়কার্য সম্পাদন করতে পারবে। যেমন বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা তৈরি করা; দরপত্র আহ্বান করা; প্রস্তাবের জন্য অনুরোধ করা; কোটেশনের জন্য অনুরোধ করা; দরপত্র/আবেদন/প্রস্তাব তৈরি, জমা, উন্মুক্তকরণ ও মূল্যায়ন করা; চুক্তি স¤পাদন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা; চুক্তি ব্যবস্থাপনা, আর্থিক লেনদেন এবং ইনফরমেশন সিস্টেমের প্রধান নির্দেশিকার মাধ্যমে সম্পাদিত কার্যাবলী পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন এবং সংশোধন করা। মোট কথা- ই-জিপি সিস্টেমের মাধ্যমে সরকারি তহবিলের অর্থে পণ্য, কার্য ও সেবা ক্রয়ের যাবতীয় প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করা যায়। ই-টেন্ডার হলো ই-জিপিরই অংশ। উপরন্তু এর সফল ব্যবহারের মাধ্যমে ক্রয়কার্যক্রম দ্রুততার সাথে নি®পন্ন করা যায়। ফলে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) এর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত হয়। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আমাদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির প্রায় ৭৫% অর্থ ব্যয় হয় ক্রয় কাজে। আমাদের বাৎসরিক কমবেশি এডিপির আকার হলো গড়ে ৫০ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য এটা অনস্বীকার্য। ভারতের কয়েকটি রাজ্যে, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও চীনে ই-জিপি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। তাদের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে সময় ও খরচ বাঁচে। প্রতিযোগিতাও বাড়ে। এতে ক্রয়কৃত পণ্য, কার্য ও সেবার গুণগত মান বাড়ে। সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা বিদ্যমান সরকারি ক্রয়ের মাধ্যমে দেশে নানা ধরনের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হয়। অতীতে সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোন সুনির্দিষ্ট আইন ও বিধি নেই। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কর্তৃক কিছু পুরাতন এবং সংস্থাভেদে অসামঞ্জস্যপূর্ণ নির্দেশনার ভিত্তিতে ক্রয় কাজ সম্পন্ন করা হয়। সরকারি ক্রয়ের অবস্থা নিরূপণে ‘কান্ট্রি প্রকিউরমেন্ট এ্যাসেসমেন্ট ২০০২ শীর্ষক এক রিপোর্টে বাংলাদেশে সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ওই সময়ে বিদ্যমান মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়। সমস্যাগুলো হলো- সরকারি ক্রয় পরিচালনার জন্য যথাযথ ও নির্দিষ্ট আইনের অনুপস্থিতি; আমলাতান্ত্রিক জটিল প্রক্রিয়ার কারণে ক্রয় কাজে বিলম্ব; ক্রয় কাজ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে পেশাদারী দক্ষতার অভাব; নিম্নমানের শিডিউল বা টেন্ডার ডকুমেন্ট; টেন্ডার মূল্যায়নে দীর্ঘসূত্রিতা; ক্রয় চুক্তির অদক্ষ ব্যবস্থাপনা; ক্রয়কাজে যথেষ্ট স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থার অনুপস্থিতি; রাজনৈতিক প্রভাব ইত্যাদি। এ সকল সমস্যা কাটিয়ে উঠে একটি মানস¤পন্ন, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও কার্যকর ক্রয় পদ্ধতি নিশ্চিত করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ক্রয় আইনে কতিপয় সংশোধনী গত ২০১১ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রিফর্ম কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। অতঃপর এ জটিল এবং সংবেদনশীল সংস্কার কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ে সরকারি ক্রয়ের জন্য একটি ইউনিফর্ম প্রণিধান (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রেগুলেশন-২০০৩) জারি ও কার্যকর করা হয়। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রেগুলেশন-২০০৩ এর বাস্তব প্রয়োগযোগ্যতার অনুসরণে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০০৮ ৩১ শে জানুয়ারি ২০০৮ থেকে কার্যকর করা হয়। উক্ত আইন ও বিধিমালাকে অধিকতর ব্যবহারোপযোগী করার জন্য গত ১২/০৮/২০০৯ ও ২৯/০৩/২০১১ তারিখে ক্রয় বিধিমালায় এবং গত ১২/১১/২০০৯ ও ১৮/০৭/২০১০ তারিখে ক্রয় আইনে কতিপয় সংশোধনী গেজেট আকারে জারি করা হয়েছে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধিমালা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধিমালায় যে কয়েকটি মূল বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে তা হলো-সংবাদপত্র, সিপিটিইউ ও ক্রয়কারীর ওয়েবসাইট ইত্যাদির মাধ্যমে টেন্ডারের ব্যাপক প্রচার; যে কোন ধরনের সরকারি ক্রয়ের জন্য লিখিত বা ইলেকট্রনিক উপায়ে সব ধরনের যোগাযোগ; বিভিন্ন ধরনের দরপত্র পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ; দরপত্র জমা দেয়া ও দরপত্র খোলার ক্ষেত্রে সকল ধাপ ও প্রক্রিয়া সঠিকভাবে স¤পন্ন; বিভিন্ন ধরনের ক্রয় কাজের প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করার জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে চলা; দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে টেন্ডার ওপেনিং কমিটি এবং টেন্ডার ইভ্যালুয়েশন কমিটি গঠন; শ্রমমূল্য, সামাজিক সুবিধা, শিশুশ্রম, নারী নীতি ইত্যাদিসহ অন্যান্য সামাজিক বিষয়সমূহ বিবেচনা; বিভিন্ন ধরনের টেন্ডারের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিমাণের টেন্ডার সিকিউরিটি গ্রহণের নিয়ম; ক্রয়কারীর জন্য কন্ট্রাক্ট পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা; রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে জরুরি ক্রয়ের ব্যবস্থা; উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে চুক্তি করার ক্ষেত্রে সংস্থা বা ব্যক্তির পূর্ব অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা অন্যতম মাপকাঠি; তালিকাভুক্ত ঠিকাদারের মাধ্যমে সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে পূর্ত কাজের আর্থিক সীমা ২ কোটি টাকা; কন্ট্রাক্ট এওয়ার্ড বা কাজের চুক্তিপত্র সম্পর্কে জনগণের জানার সুযোগ; পূর্ত কাজ ও সেবার ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগে দরপত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ; দরপত্রে অংশগ্রহণকারী সকলের জন্য বৈষম্যহীন আচরণ এবং একই নিয়ম অনুসরণ; স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সংঘাত ও অপেশাদারী আচরণের ক্ষেত্রে করণীয় বিষয়; দরদাতাদের অভিযোগ এবং রিভিউ প্যানেলে আপিল দাখিলের সুযোগ।
ই-টেন্ডারিং এর বর্তমান অবস্থা সরকারি প্রতিষ্ঠানে দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ই-টেন্ডারিং চালু হলেও অনলাইনে দরপত্র আহ্বানে সাড়া মিলছে খুবই কম। সর্বশেষ সড়ক ভবনের সংঘর্ষের পর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব এড়াতে- দ্রুত সব প্রতিষ্ঠানে ই-টেন্ডারিং কার্যকর করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর সড়ক ভবনে দরপত্র নিয়ে গোলাগুলির ঘটনায় নতুন করেই দরপত্র জমা দেয়া নিয়ে সংঘর্ষের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। অথচ এই অবস্থা এড়াতেই ২০১১ সালে সরকার চালু করে ই-টেন্ডারিং নামের একটি পাইলট প্রকল্প। দেশের সবচেয়ে বেশি দরপত্র আহ্বানকারী চারটি প্রতিষ্ঠানের ১৬ শাখাতেই এখন অনলাইনে দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু অনলাইনে দরপত্রে অংশ নিতে খুব কম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই আগ্রহ দেখাচ্ছে। ই-টেন্ডার আছে এমন চারটি প্রতিষ্ঠানের একটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের সব কাজে দরপত্র আহ্বান করা হয় না। প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম এনালিস্ট জানান ই-টেন্ডারিং এ তারা কম দরপত্র আহ্বান করেন, কারণ এটা এখনও পাইলট প্রকল্প। দায়সারা প্রশিক্ষণ দিয়েই কাজ শেষ পোর্টালটি নিয়ন্ত্রণ করছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ)। ই-জিপি উদ্বোধনের পরই চালু হয়েছে ঠিকাদারদের অনলাইন ভিত্তিক নিবন্ধন। অনলাইনে দরপত্রের নথিপত্র দাখিলসহ সব প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে যেন করা যায়, এর জন্য তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেয়া হবে বলা হয়েছিল তবে কয়েক জায়গায় দায়সারা প্রশিক্ষণ দিয়ে আর কোন প্রশিক্ষণ দেয়া হয়নি। ফলে ঠিকাদারদের অনেকেই এ পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত নন। চালু হওয়া ই-টেন্ডারিং কি চালু আছে? ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট ওয়েব পোর্টালে উল্লেখ রয়েছে, প্রাথমিকভাবে ৪টি সংস্থার ক্রয়কারী অফিসে ই-টেন্ডারিং চালু হয়েছে। সংস্থাগুলো হচ্ছে এলজিআরডি, সড়ক ও জনপথ, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ভিত্তিক দরপত্র কার্যক্রম চলছে না। ডিজিটাল পদ্ধতির বদলে এনালগ পদ্ধতিতে এখনো চলছে দরপত্র দাখিল। ফলে ভেস্তে যাচ্ছে সরকারের ই-টেন্ডার কার্যক্রম। ই-টেন্ডারে বাংলাদেশ ব্যাংকের আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্তি বাংলাদেশ ই-টেন্ডারে অনেক ভালো করতে পারে তার একটি প্রমাণও রয়েছে। গেল বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উন্নয়নকৃত ও সফলভাবে ব্যবহৃত ই-টেন্ডার পদ্ধতিটি আমেরিকার লরেন্স টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃক আয়োজিত তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত তৃতীয় আন্তর্জাতিক শিল্প প্রকৌশল ও পরিচালন ব্যবস্থাপনা সম্মেলনে (আইইওএম-২০১২) পুরস্কৃত হয়েছে। এটি সম্মেলনে ই-বিজনেস ও ই-কমার্স শাখায় শ্রেষ্ঠ র্ট্যাক পেপার পুরস্কার অর্জন করে। তুরস্কের ইস্তাম্বুল টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে ৩-৬ জুলাই এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ৪ জুলাই ২০১২ বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা (সিস্টেম অ্যানালিস্ট রাহাতউদ্দিন ও প্রোগ্রামার এস এম তোফায়েল আহমেদ) সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন। ওই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, জার্মানিসহ পৃথিবীর ৫৯টি দেশের গবেষকেরা তাঁদের গবেষণাপত্র দাখিল করেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সব সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকেই প্রথম ই-টেন্ডার পদ্ধতি বাস্তবায়িত হয়েছে। ই-টেন্ডার না থাকায় বাড়ছে টেন্ডারবাজি ও সহিংস ঘটনা ই-টেন্ডার স¤পূর্ণভাবে চালু না হওয়ায় বাড়ছে টেন্ডারবাজি। অনলাইনের বদলে কাগজের দরপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাড়ছে সহিংস ঘটনাও। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নিয়ন্ত্রণ চলছে টেন্ডার প্রক্রিয়া। সম্প্রতি রাজধানীর সড়ক ও জনপথ বিভাগে পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করছেন ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ কয়েক নেতা। দুগ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও একাধিক টেন্ডারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। সড়ক ও জনপথের (সওজ) প্রকৌশলীরা বলছেন, ই-টেন্ডারিং পদ্ধতি চালু না হওয়ায় টেন্ডার সংক্রান্ত জটিলতার অবসান হচ্ছে না। সরকারীভাবে প্রায় দেড় বছর আগে এ পদ্ধতি চালু হলেও সড়ক ও জনপথে ই-টেন্ডারিং কার্যক্রম শুরু হয়নি। সাম্প্রতিক কালে টেন্ডার নিয়ে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ে গণপূর্ত ভবনে আ.লীগের লঙ্কাকাণ্ড গত ১৭ জানুয়ারি ২০১৩ এক কোটি ১৫ লাখ টাকার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে গণপূর্ত ভবনে লঙ্কাকাণ্ড ঘটিয়েছে সন্ত্রাসীরা। ঠিকাদারদের অবরুদ্ধ করে দরপত্র ফেলে দিয়েছে। দফায় দফায় হামলা চালিয়ে টেন্ডার জমা দিতে আসা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের তাড়িয়ে দিয়েছে। গণপূর্ত বিভাগের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ দলীয় ক্যাডাররা ওইদিন ঠিকাদারদের অবরুদ্ধ করে রাখে। তারা সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দফায় দফায় ঠিকাদারদের ওপর হামলা চালায়। ক্যাডাররা টেন্ডার ডকুমেন্টস ফেলে দিয়ে ঠিকাদারদেরও বের করে দেয়। বিতর্কিত এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের ক্যাডাররা এ তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেগুনবাগিচার সরকারি ১২ তলার ২নং ভবনের গণপূর্তের ডিভিশন-৪ এর কার্যালয়ে এসব ঘটনা ঘটে। মাগুরায় পুলিশের সামনে অর্ধ কোটি টাকার টেন্ডার ছিনতাই করেছে ছাত্রলীগ গত ৭ জানুয়ারি ২০১৩ ছাত্রলীগের একটি সশস্ত্র গ্রুপ পুলিশের উপস্থিতিতে মাগুরা গণপূর্ত বিভাগের অর্ধ কোটি টাকার সিআইডি অফিস ভবন নির্মাণের দরপত্র ছিনতাই করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ সদর থানায় জিডি রুজু এবং দরপত্রটি বাতিল করে পুনঃদরপত্র আহ্বানের ঘোষণা দিয়েছে। টেন্ডার ছিনতাইয়ের পর আওয়ামী লীগ দলীয় দুদল ঠিকাদার গ্র“পের মধ্যে এখনও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঝালকাঠি এলজিইডির টেন্ডার লটারিতে সরকার দলীয়দের বাধা ঝালকাঠি এলজিইডির সড়ক ও কালভার্ট মেরামতের ৫ কোটি টাকার টেন্ডারের লটারি চলাকালে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সরকার দলীয় এক গ্র“পের বাঁধায় লটারির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। গত ৯ জানুয়ারি ২০১৩ বুধবার সকাল ১১ টায় এলজিইডি ভবনের নীচ তলায় লটারির কার্যক্রম শুরু হবার পর তাতে বাধা দেয়ায় সাধারণ ঠিকাদার এবং এক নেতা ও তার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। ২০ কোটি টাকা ভাগাভাগি করতে তিনবার রি-টেন্ডার আরইবির রি-টেন্ডার করে ২৩ কোটি টাকার টেন্ডার করা হলো ৪৩ কোটি টাকা। ২০ কোটি টাকা ভাগাভাগি করতে তিন বার রি-টেন্ডারের আয়োজন। আরইবি কর্মকর্তাদের ওই কারসাজি নিয়ে তোলপাড় চলছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে। সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কার্যাদেশ দেয়ার শেষ প্রস্তুতি নিচ্ছে আরইবি কর্তৃপক্ষ- এমন তথ্য পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে। একটি কো¤পানি, তাদের পেছনে এক মন্ত্রীর ভাই গিলে খাওয়ার চেষ্টা করছে পুরো বিদ্যুৎ সেক্টর। ডেসকোতে ৫০ কোটি টাকা ভাগ-বাটোয়ারার আয়োজন চূড়ান্ত করে এখন আরইবির ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা করছে ওই একই কো¤পানি এবং তাদের পেছনের ইন্ধনদাতা শক্তি। সূত্রমতে আরইবি তাদের প্রয়োজনীয় এক্সক্লুসিভ ক্যাবল যার আইটেম কোড ডি-৬৭, ডি-৬৮ ও ডি-৭৩ সংগ্রহ করার জন্য টেন্ডার আহ্বান করে গত বছর ২৬শে অক্টোবর। ওই টেন্ডারে মোট তিনটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী ওই তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি ট্রেডিং কো¤পানি বাকি দুটি দেশীয় উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ট্রেডিং কো¤পানি হচ্ছে এসকিউ ট্রেডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লি.। রহস্যজনক কারণে আরইবি ওই টেন্ডারটি তিনবার রি-টেন্ডার করে। দরপত্র আহ্বানের প্রথম দফায় এসকিউ ট্রেডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লি. দর উদ্ধৃত করে ২৩.৪২ কোটি টাকা। দ্বিতীয়বার রি-টেন্ডারে তারা দর উদ্ধৃত করে ৩৮.৩২ কোটি। এরপরও আরইবি আরেক দফা রি-টেন্ডার করলে সেখানেও তিনটি মাত্র প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে এবং ওই দফায় এসকিউ অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লি. দর উদ্ধৃত করে ৪৩.৩৩ কোটি টাকা, যা তাদের প্রথম উদ্ধৃত দর থেকে ২০ কোটি টাকা বেশি। সূত্রমতে তিনবার রি-টেন্ডার করে ২০ কোটি টাকা বাড়িয়ে এখন এসকিউ অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লি. কে ক্রয়াদেশ দেয়ার যাবতীয় পাঁয়তারা সম্পন্ন করেছে আরইবি। রাজউকে ২৫ কোটি টাকার টেন্ডার ছিনতাই গত ২৪ ডিসেম্বর ২০১২ পুলিশের উপস্থিতিতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ভবনে আবদুল মোনেম লিমিটেড নামের এক নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ২৫ কোটি টাকার টেন্ডার ডকুমেন্ট ছিনতাই করা হয়েছে। দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সন্ত্রাসীরা এ কাজটি করেছে বলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েক জন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন। এদের মধ্যে যুবলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের আগের কমিটির সদস্য আজাদ, মতিঝিল থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল ও ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ধারী শাহীন মোল্লা, সোহাগ আলীম ও রাজের নেতৃত্বে শতাধিক বহিরাগত ছিল। তারা সকাল থেকেই টেন্ডার পাহারা দিয়ে এ কর্মকাণ্ড ঘটায়। টেন্ডার ছিনতাই সিন্ডিকেটের কব্জায় ৫০০০ কোটি টাকা রাজউকের টেন্ডার ছিনতাই সিন্ডিকেটের কব্জায় রয়েছে ৫০০০ কোটি টাকার কাজ। সিন্ডিকেট নেতাদের গ্রিন সিগন্যাল ছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং সিএমএমএমইউসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ঠিকাদাররা কাজ পান না। যারা সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কাজ পেতে পুলিশ বাহিনী বা অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় টেন্ডার জমা দেন তাদের রক্ষা নেই। মৃত্যু পরোয়ানাসহ হুমকি-ধমকি শুনতে হয়। পার্সেন্টেজ না দিয়ে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সাধারণ ঠিকাদারদের রফা হয় না। বাংলাদেশে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল: আইটি বিশেষজ্ঞ ই-টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জটিলতার শেষ নেই। আইটি বিশেষজ্ঞ ও সফটওয়্যার নির্মাতা জগলুল হাসান বলেন, 'বাংলাদেশে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। ই-টেন্ডারে অংশ নিতে হলে অনেক জটিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অংশ নিতে হয়।' তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও ই-টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়া একদম সহজ। আমাদের ই-টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হলে অনেক ধাপ সম্পন্ন করে ই-টেন্ডারে অংশ নিতে হয়। তাছাড়া এ জন্য ঠিকাদারদের প্রশিক্ষণেরও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। বাংলাদেশে ই-টেন্ডারিংয়ে অংশ নিতে হলে অবশ্যই ই-জিপি পোর্টালে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করার পরই একজন দরদাতা হিসেবে ই-জিপি পদ্ধতিতে প্রবেশ করতে পারবেন এবং এ পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে ই-টেন্ডারিংয়ে অংশ নিতে পারবেন। নিবন্ধনের জন্য ই-মেইল আইডি, নতুন পাসওয়ার্ড, জাতীয়তা, রেজিস্ট্রেশন ভেরিফিকেশন কোডসহ প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো প্রদান করে নীতিমালা মেনে নিতে এর আগে টিক চিহ্ন দিয়ে ফরমটি সাবমিট করতে হবে। তবে এর আগে রেজিস্ট্রেশন টাইপের বক্সে আপনি কি হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করবেন যেমন টেন্ডারার, কনসালট্যান্ট, ইন্ডিভিজ্যুয়াল কনসালট্যান্ট, গভর্মেন্ট ওনার এন্টারপ্রাইজ বা মিডিয়া তা সিলেক্ট করে দিতে হবে। ফরমটি সাবমিট হলে আপনার দেয়া ই-মেইল ঠিকানায় ভেরিফিকেশন কোডসহ একটি মেইল যাবে। মেইলটি খুলে নিশ্চিত করলে নতুন একটি পেজ ওপেন হবে। এখানে মেইলে প্রাপ্ত ভেরিফিকেশন কোডটি নির্দিষ্ট জায়গায় লিখে সাবমিট করলে আবারও একটি মেইল পাঠানো হবে, যাতে কতিপয় অত্যাবশ্যকীয় ডকুমেন্ট স্ক্যান করে দাখিলের জন্য নির্দেশনা দেয়া থাকবে। নিবন্ধনের জন্য দেশি দরদাতা/পরামর্শকদের বাংলাদেশি টাকায় এবং আন্তর্জাতিক দরদাতাদের ইউএস ডলারে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি প্রদান করতে হবে। ই-জিপি ওয়েবসাইটে লগইন করে নিবন্ধন ফি পরিশোধ সংক্রান্ত ডকুমেন্টসহ অন্যান্য ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে। আপলোড করা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরকারি কর্মকর্তা দিয়ে সত্যায়িত করে সিপিটিইউয়ের ই-জিপি ইউজার রেজিস্ট্রেশন ডেস্কে পাঠাতে হবে। ডকুমেন্টগুলো সিপিটিইউ কর্তৃক যাচাই করার পর ই-মেইলে ব্যবহারকারী হিসেবে নিবন্ধন অনুমোদন সংক্রান্ত একটি মেইল পাঠানো হবে। এরপর পোর্টালটির ইউজার লগইন বক্সে ই-মেইল আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে ই-টেন্ডারিং প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়া যাবে। পুরো নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি জটিল বলে মনে করছেন আইটি বিশেষজ্ঞ ও ঠিকাদাররা। আইসিটি সচিব যা বললেন বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: নজরুল ইসলাম খান এই প্রতিবেদককে বলেন, ই-টেন্ডারিং চালু হলে কিছুটা হলেও দুর্নীতি কমবে। আগে বিভিন্ন অখ্যাত পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে কিছু অসাধু লোক টেন্ডারিং এ অংশগ্রহণ করতো, এটা চালু হলে সে সুযোগ আর থাকবে না। এবং ই-টেন্ডারিং চালু হলে যে কোন ব্যক্তি যে কোন জায়গা থেকে টেন্ডার সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাবে। এতো কিছুর পরেও কেন ই-টেন্ডার চালু হচ্ছে না? জানতে চাইলে সচিব বলেন, সরকার থেকে এ ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়ে চাপ দেওয়া হচ্ছে না বলে দ্রুত কাজটি হচ্ছে না। তবে খুব শীঘ্রই ই-টেন্ডারিং এর কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ই-টেন্ডার নির্মাতা যা বললেন বাংলাদেশে ই-টেন্ডারিং নিয়ে কাজ করছে বিশ্ব ব্যাংকের নোমিনেটেড সাব কনসাল্টেন্ট (ইজিপিআর) দোহা টেক। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহা এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা মূলত ২০০৪ সালের ৪ জুলাই থেকে ই-টেন্ডারিং নিয়ে কাজ করছি। তখন আমরা একটা সাইট নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে এখন যে সব ই-টেন্ডারিং নিয়ে কাজ করা হচ্ছে, তা শুধুমাত্র কোটি টাকার ওপরের টেন্ডার। বর্তমানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি), বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি) এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ (আরএইচডি) এই চারটি মন্ত্রণালয়ে টেন্ডার বেশি হয় বলে এখন এগুলোতে ই-টেন্ডারিং নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের টেন্ডারগুলোও ই-টেন্ডারিং এর আওতায় চলে আসবে। দেড় বছর আগে প্রধানমন্ত্রী ই-টেন্ডারিং উদ্বোধন করলেও এখনও সম্পূর্ণ চালু হলো না কেন? জানতে চাইলে তিনি জানান, সরকার প্রাথমিক পর্যায়ে ৪টি মন্ত্রণালয়ে পাইলট প্রজেক্ট করে দেখছেন। এখানে সফল হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ে কাজ করা সহজ হয়ে যাবে। এছাড়া সরকারের যে সব কর্মকর্তারা রয়েছেন, তাদের অনেকেরই কম্পিউটার স্কিল ডেভেলপ হয়নি বলে ব্যাপারটি ধীর গতিতে চলছে।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...